জেলার কৃতী খেলোয়াড়দের সংবর্ধনার আয়োজন জানুয়ারিতে
নিজস্ব প্রতিবেদনঃ মুর্শিদাবাদ জেলার একমাত্র স্টেডিয়াম। বহরমপুর স্টেডিয়াম (Berhampore Stadium) জুড়ে খেলোয়াড়দের আবেগ অটুট। এই স্টেডিয়াম ঘুরে দেখলেন মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) নতুন জেলাশাসক নীতিন সিংহানিয়া (Shri Nitin Singhania)। শনিবার স্টেডিয়াম পরিদর্শনের আগে পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থার অফিসে বৈঠক করেন জেলাশাসক। প্রায় আধ ঘণ্টা মুর্শিদাবাদ জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। নতুন কী কী পরিকল্পনা আছে? কী কী অভাব-অভিযোগ আছে? খোঁজ নিলেন ক্রীড়া সংস্থার কর্তাদের থেকে। জেলাশাসকের সঙ্গেই এদিনের বৈঠকে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা শাসক (সাধারণ) দীননারায়ণ ঘোষ, জেলা যুব আধিকারিক লিটন সাহা, পৌর যুব আধিকারিক সুভাষচন্দ্র বিশ্বাস, মুর্শিদাবাদ ডিসট্রিক্ট স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের (ডিএসএ) ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখর রায়,সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ ভাদুড়ী, অন্যান্য কর্তা ব্যক্তিরা।

DM Visits Berhampore Stadium বৈঠকের পরে খেলার মাঠ ঘুরে দেখেন জেলাশাসক। কথা বলেন খুদে ক্রিকেটারদের সঙ্গে। খোঁজ নেন কোচের থেকেও। নেট প্র্যাকটিস থেকে পানীয় জল, পর্যাপ্ত আলোর কোন সমস্যা আছে কি না সরাসরি শোনেন খেলোয়াড়দের মুখ থেকেই। অভিভাবকদের বসার জায়গা নিয়েও খোঁজ নেন। ক্রিকেট ছাড়াও ফুটবলের প্রশিক্ষণ, মাঠে বেড়া কতদূর! সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন। পরিদর্শনের পর বহরমপুর স্টেডিয়ামকে নতুন রুপ দিতে বেঁধে দেওয়া হল তিন মাসের টার্গেট।
আরও পড়ুনঃ DM Visits Jangipur Hospital জঙ্গিপুর হাসপাতাল নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি জেলা শাসকের, দিলেন ‘ওয়ার্নিং’
DM Visits Berhampore Stadium মুর্শিদাবাদ জেলার প্রাক্তন খেলোয়াড়দের সম্মান জানানো হবে। এদিন জানালেন জেলাশাসক। জানুয়ারি মাসে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের জন্যে জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে উদ্যোগ নিতে বললেন। জেলা ক্রীড়া সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখর রায় জানান, এর আগে এভাবে জেলার প্রাক্তন খেলোয়াড়দের সম্মান জানানো হয়নি।

DM Visits Berhampore Stadium স্টেডিয়ামের আমূল সংস্কারের উদ্যোগ। দর্শক গ্যালারি থেকে, হকির মাঠ, ৩ নম্বর মাঠে বেড়া দেওয়া, জেলা ক্রীড়া সংস্থার নিজস্ব কমিউনিটি হল তৈরির উদ্যোগ শুরু সহ একাধিক পরিকল্পনা জেলাশাসকের। স্টেডিয়াম ঘুরে দেখে জেলাশাসক বলেন, ”এখানে যা পরিকাঠামো রয়েছে সেগুলিকে কী করে আরও উন্নত করা যায়, নতুন খেলা কী করে অন্তর্ভুক্ত করা যায় সেটা নিয়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থায় আমাদের টিমের সঙ্গে স্টেডিয়াম পরিদর্শন হয়েছে। যে পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে ফাঁক রয়েছে সেগুলির জন্যে ‘এসটিমেট’ তৈরি করা হচ্ছে। সেই কাজগুলি করা হবে। পরবর্তী তিন মাসের টার্গেট নেওয়া হয়েছে। শিশুদের খেলতে অসুবিধা দূর করা, অভিভাবকদের জন্যে আরও ভালো সুযোগের যাতে ব্যবস্থা করা যায় তা নিয়ে ভাবা হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে মুর্শিদাবাদ জেলায় স্পোর্টসের যেন উন্নয়ন হয় সেজন্যে জেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।”

Berhampore Stadium এদিন জেলাশাসককে পেয়ে একের পর এক দাবি জানানো হয় জেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে। নতুন জেলাশাসক হওয়ার পর এই প্রথম স্টেডিয়ামে এলেন তিনি। পদাধিকার বলে তিনি জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রেসিডেন্ট। সূত্রের খবর, এদিন বৈঠকে জেলাশাসক জেলা ক্রীড়া সংস্থার অন্যান্য পদাধিকারীদের জানান খেলার জন্যে ফি কমাতে হবে। জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে শক্তিশালী করতে নিজস্ব তহবিল গড়তে হবে। এজন্যে তিনি কমিউনিটি হল তৈরির জন্যে উদ্যোগ নিতে বলেন। সেই কমিউনিটি হল কোন জায়গায় হবে তার জায়গাও দেখেন জেলাশাসক। জেলা শিল্পকেন্দ্রের অফিসের উলটোদিকে স্টেডিয়ামে প্রবেশের বাম দিকে ওই কমিউনিটি হল তৈরির জন্যে ‘এসটিমেট’ করতে বলেন। বহরমপুর কলেজের দিকে এই ‘মাল্টি ইউজ’ কমিউনিটি হল করতে ডিএসএ-র তরফে প্রস্তাব দেওয়া হয়। এদিন স্টেডিয়ামে একটি সুইমিং পুলেরও দাবি জানানো হয় জেলা ক্রীড়া সংস্থার তরফে। যদিও জেলা সুইমিং এ্যাসোসিয়েশনে নতুন সুইমিং পুল হচ্ছে বলে সেই প্রস্তাব এখনই আমল পায়নি।
DM Visits Berhampore Stadium একইসঙ্গে এদিন একটি হকির মাঠ করতে বলেন জেলাশাসক। ডিএসএর অন্য পদাধিকারীরা জানান, হকির জন্যে রাজ্য হকি সংস্থা থেকে ১ লাখ টাকা পাওয়া যাবে। বাকি টাকার ব্যবস্থা করতে হবে। দর্শক গ্যালারিতে ছাদ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে বলেন জেলাশাসক। এদিন জেলাশাসক হেলিপ্যাডের গায়ে প্রচুর পরিত্যক্ত গাড়ি দাঁড় করানো দেখে তা দ্রুত খালি করতে বলেন। জানান, সেখান থেকে খেলার মাঠ যেন পরিষ্কার দেখা যায়। এছাড়া টয়লেট নির্মাণ সহ একাধিক বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে বলেন। এদিন কয়েকজন খুদে খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। জানতে চান তাদের কোনও অসুবিধা রয়েছে কি না। শিশুদের মধ্যে একজন জগমোহন ডালমিয়া ক্রিকেট সেন্টারে আলোর সমস্যার কথা তুলে ধরে। তা শুনে সেখানে আলোর ব্যবস্থা করতে বললেন জেলাশাসক।

Berhampore Stadium বিশ্বজিৎ ভাদুড়ী বলেন, জেলাশাসক একটা ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছেন। আগামী দিনে শীঘ্রই উনি বৈঠক ডাকবেন। এখানে জেলাশাসকের কথা অনুযায়ী জেলার অতীতের প্রথিতযশা খেলোয়াড়, বর্তমানে রাজ্যস্তরে বা জাতীয় স্তরে খেলায় ভালো স্থান করেছে তাঁদেরকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে। জেলাশাসক বেশ কিছু আশার বাণী শুনিয়ে গেলেন। আমরা খুব আনন্দিত।
উল্লেখ্য, ১৯৬২ সালে ভিত্তি স্থাপন থেকে আজ ২০২৫-এর নভেম্বর। ১১০ বিঘা জায়গা জুড়ে এই স্টেডিয়ামের পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বারবার। নতুন উদ্যোগ, একগুচ্ছ পরিকল্পনা , তিন মাসের টার্গেট পূরণের অপেক্ষায় জেলা ক্রীড়া মহল।









