আজ কি ঢল নামবে দর্শনার্থীদের?
নিজস্ব প্রতিবেদনঃ সোমবার রাতে কালীপুজোয় (Kalipuja) লোকে লোকারণ্য হবে। ভক্তদের ঢল নামবে। ২০২৩ সালে মিলেছে দেশের সেরা পর্যটন গ্রামের স্বীকৃতি। কিন্তু কোথায় কী? সব আশায় জল। হতাশ মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) জেলায় থাকা একমাত্র সতীপীঠ কিরীটেশ্বরীকে (Kiriteshwari) ঘিরে আশায় বুক বাঁধা অনেকেই। নিরাশ সেখানকার পূজারীরা। উপচার মেনে পুজো সম্পূর্ণ হয়েছে। তবে দর্শনার্থীদের ও ভক্ত সংখ্যায় খুশি নন পুজোর সঙ্গে যুক্ত থাকা অনেকেই।
আরও পড়ুনঃ Tarapur Bidi Hospital: তারাপুর হাসপাতাল বাঁচাতে সময় বেঁধে দিল সিআইটিইউ

Kiriteshwari সোমবার ভোরে কিরীটেশ্বরী মন্দিরের পূজারী দিলীপ কুমার ভট্টাচার্য পুজো শেষে বলেন, ভেবেছিলাম রাত হলে লোক বাড়বে। কিন্তু সেরকম লোক দেখলাম না। অমাবস্যা মঙ্গলবার বিকেল ৪ টে পর্যন্ত আছে। আমার মনে হয় তাই দিনে লোকের ঢল নামবে বলে মনে হচ্ছে। আশা করেছিলাম, অনেক লোক আসবেন। কিন্তু সেরকম আসেননি। এখন পাড়ায়-পাড়ায় পুজো। রাত ১২ টার পরে পুজোয় বসেছিলাম। যাই হোক পদ্ধতি মেনে পুজো হল। প্রথমে আণহিক করলাম, নৈবেদ্য নিবেদন করলাম। বলি হল।
Kiriteshwari এবছর আবহাওয়া ভালো রয়েছে। বৃষ্টি হয়নি। কালীপুজোর রাত ছিল সর্বত্রই জমজমাট। নবগ্রাম থানা এলাকার কিরীটেশ্বরীকে ঘিরে সারা বছর পর্যটক আসবেন। কিন্তু নিশ্চিতভাবেই কালীপুজোতে ভিড় বাড়বে। কালীপুজোর রাতে দর্শনার্থী কম হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে কিরিটেশ্বরী সারা বছর কতটা পর্যটক আকর্ষণ করবে তা নিয়ে চিন্তিত শুভাকাঙ্ক্ষীরা। স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার দিনেও এখনও পর্যন্ত সেরকম ভিড় হয়নি। তবে তাঁরা আশা করছেন, ‘আজ রাতে ভিড় হবে।’
Kiriteshwari সতীর ৫১ পীঠের একটি পীঠ কিরীটেশ্বরী। বাংলায় যে ১৩ টি সতীপীঠ রয়েছে তার মধ্যে একটি এই কিরিটেশ্বরী। মুর্শিদাবাদ জেলার অনেকে এর আগে হতাশা প্রকাশ করেছেন, যেভাবে দেশ জুড়ে সতীপীঠ ঘিরে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে সেই তুলনায় অবহেলিত কিরীটেশ্বরী। ধর্মীয় গ্রন্থ ও লোক কথা অনুযায়ী, বিষ্ণু যখন সুদর্শন চক্র দিয়ে দেবীকে খণ্ড-খণ্ড করেন সেসময় বিভিন্ন স্থানে দেহের অংশ পড়ে। দেবীর কিরীট অর্থাৎ মুকুট পড়েছিল এখানে। অন্যতম প্রাচীন এই কালীপুজো। এক সময় এখানে প্রচুর মন্দির ছিল বলে শোনা যায়। কিন্তু সেগুলির অনেক কিছুই আজ অবশিষ্ট নেই। বার বার দাবি উঠেছে, পর্যটনের আকর্ষণের জন্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হোক।
Kiriteshwari জিয়াগঞ্জ রেল ষ্টেশন থেকে মাত্র ৮ কিমি দূরে এই মন্দির। জেলার সদর শহর বহরমপুর থেকে দূরত্ব ৩০ কিমি। অন্যান্য সতীপীঠের মতো ভিড় টানুক কিরীটেশ্বরী। এমনটাই চান স্থানীয়রা। এক বিক্রেতা বলছিলেন, ভিড় বাড়লে আমাদের বিক্রি ভালো হবে। এলাকার অনেকের আয়ের পথ সুগম হবে। শুধু তাই নয় জনসমাগম বাড়লে নানাভাবে এখানকার অর্থনীতি ভালো হবে। কেন এখানে সেভাবে ভিড় হচ্ছে না তা খতিয়ে দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। একাংশের বক্তব্য, এখন আর কালীপুজো ‘এক রাতের’ বলা যাবে না। কালীপুজোকে ঘিরে কয়েকদিন ধরে দর্শনার্থীরা মণ্ডপে মণ্ডপে ঘোরেন। আজ দীপাবলী। আজ ভিড় বাড়ুক, সেদিকেই চেয়ে আছেন এলাকাবাসীরা।









