নিজস্ব প্রতিবেদনঃ অধিকার আদায়ে পথে নামছেন মৎস্যজীবীরা (Fishermen)। মাছ চাষি, যারা মাছ ধরেন, মাছ বিক্রি করেন সেই সব ক্ষুদ্র মৎস্যজীবীদের সমস্যা ও দাবি সামনে রেখে মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) জেলার ৬ টি ব্লকে আগামীকাল থেকে প্রচার চলবে। জলাশয়, মৎস্য সম্পদের অধিকার, জীবিকা সুরক্ষা, সরকারি প্রকল্পের সুষম বন্টন নিয়ে মাছ চাষিদের কন্ঠস্বরকে আরও শক্তিশালী করা এর উদ্দেশ্য। ফরাক্কা থেকে আগামীকাল, বৃহস্পতিবার অভিযান শুরু। ফরাক্কার ডিয়ার ফরেস্ট গ্রামে পতাকা উত্তোলনে দিয়ে যাত্রা শুরু হবে। ওই যাত্রা শেষ হবে আগামী ৯ তারিখ সাগরপাড়া ব্লকে।
আরও পড়ুনঃ Humayun Kabir MLA ৪৮ ঘন্টা মধ্যে কী করবেন হুমায়ুন কবির ?

৬ নভেম্বর ফরাক্কার ডিয়ার ফরেস্ট, সাইদাপুর তালতলায় এই যাত্রা হবে। সাত নভেম্বর জিয়াগঞ্জ, কৃষ্ণমাটি, গান্ধী কলোনিতে হবে। ৮ তারিখ দামুসের ধার, রামনগর, চিড়িয়াখানা, জয়মনিপাড়া, মহাদেবপুর, উত্তরচর মাঝারদিয়াড়ে যাত্রা হবে। ৯ নভেম্বর কাতলামারি হালদারপাড়া, চর সরন্দাজপুর, চর রাজনগর, কাজিপাড়া বামনাবাদ, খাসমহল, সিংপাড়া, সূর্যনগর, সাগরপাড়ায় ওই যাত্রা হবে।
শুকিয়ে যাচ্ছে খাল, বিল, নদী। সঙ্কটে মৎস্যজীবীরা, সঙ্কটে মাছ চাষ। অভিযোগ মৎস্যজীবীদের রক্ষায়, নদী সংস্কারে প্রয়োজনীয় সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। কাজ না থাকায় মৎস্যজীবীরা পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে বাইরে চলে যাচ্ছেন। জীবিকা সঙ্কটে, তাঁদের আইনি সুরক্ষা নেই। এই সঙ্কটের পরিস্থিতে জল বাঁচাও, মাছ বাঁচাও, মৎস্যজীবী বাঁচাওয়ের দাবি তুললেন মুর্শিদাবাদ জেলার মৎস্যজীবীরা।
বুধবার বহরমপুরে স্টুডেন্ট হেলথ হোমে দক্ষিণবঙ্গ মৎস্যজীবী ফোরাম (Dakshinbanga Matsyajibi Forum) এই সংক্রান্ত একটি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে। এদিন হাজির ছিলেন রানীনগর ১, রানীনগর ২, সাগরপাড়া সহ জেলার বিভিন্ন ব্লকের মৎস্যজীবীরা।
ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মিলন দাস জানিয়েছেন, মাছ ধরার অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে জেলায় এই অধিকার যাত্রা। সমুদ্র, খাল-বিল, নদী-নালায় চিরাচরিত মৎস্যজীবীদের মাছ ধরার অধিকার, সীমান্তে পীলা কার্ড নয়, মৎস্যজীবী নিবন্ধীকরণ কার্ডের ভিত্তিতে মাছ ধরতে দিতে হবে। নদীঘাটগুলিতে মৎস্যজীবীদের নৌকা থেকে অন্যায়ভাবে চাঁদা নেওয়া বন্ধ করতে হবে। মৎস্যজীবীদের ব্যাংক ঋণ, প্রশিক্ষণ দিতে হবে। চিকিৎসা বীমা,বার্ধক্য ভাতা, সীমান্ত এলাকায় সমস্যা দূর করা সহ অন্যান্য দাবিতে জেলায় এই অধিকার যাত্রা। সারা রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন জেলায় এই যাত্রা হচ্ছে।
এদিন মৎস্যজীবীদের অধিকার রক্ষার এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য পেশ করেন বিজ্ঞানী, গবেষক ড. সূর্যেন্দু দে।

পরিবেশবিদ সূর্যেন্দু দের কথায় শোনা যায় তেভাগা আন্দোলনের স্লোগান, জমি যার লাঙ্গল তাঁর। জাল যার জলা তাঁর। তিনি জানান, জলাশয় নিলামে দেওয়া হচ্ছে। সেখানে থেকে লাভবান হচ্ছেন ধনী ব্যক্তি। কিন্তু বঞ্চিত হচ্ছেন মৎস্যজীবীরা। বিজ্ঞান সম্মত উচ্চ ফলনশীল চাষে রাসায়নিক সারের নাইট্রোজেন ঘটিত জল বিষিয়ে দিচ্ছে। প্রভাব পড়ছে মাছেদের উপর। মাছের জীবন চক্র বিঘ্নিত হচ্ছে। আগে ১৪০ প্রজাতির চুনো মাছ পাওয়া যেত। তা কমে আসছে। প্রাকৃতিক ডিম পোনা রক্ষা করার কথা শোনা যায় তাঁর মুখে। তিনি আরও জানান, বাম আমলে ভূমি সংস্কারের ফলে কৃষকেরা লাভবান হয়েছেন। কিন্তু মৎস্যজীবীদের জন্যে কেও ভাবেননি।










