College Admission কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ, শুরু হয়েছে ক্লাস। আর তারপরেই সামনে আসছে হতাশাজনক ছবি। কোন ক্লাসে চারজন, কোন ক্লাসে ৬ জন, কোন ক্লাসে আবার ১ জন পড়ুয়া নিয়ে ক্লাস করাচ্ছেন কলেজের অধ্যাপকরা। কলেজ থেকে কেন মুখ ফেরাচ্ছে শিক্ষার্থীরা? প্রথম সেমেস্টারের ক্লাস শুরু হতেই প্রশ্নচিহ্নের মুখে উচ্চশিক্ষা!
College Admission ৭ নভেম্বর স্নাতকস্তরে কলেজের পোর্টালে ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। সপ্তাহের প্রথম দিন ক্লাস শুরুর পর মুর্শিদাবাদের ঐতিহ্যবাহী কান্দি রাজ কলেজ জুড়ে উদ্বেগের ছবি। এই কলেজে মোট আসন সংখ্যা ২৫০০। সেখানে এখনও অব্ধি ৮০০ জন ভর্তি হয়েছে, এখনও আসন ফাঁকা ১৭০০। এখনও কেন আসন ফাঁকা ?
আরও পড়ুন- Berhampore Girls’ College গঙ্গা বাঁচাতে কী করা উচিৎ, কী নয়? সচেতনতার পাঠ গার্লস কলেজে
College Admission ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে কি কলেজে ভর্তির প্রবণতা কমছে ?
College Admission এই অবস্থায় চিন্তিত শিক্ষা মহল। কী কী কারণে এই দুর্দিন দেখতে হচ্ছে? কারণ হিসেবে কান্দি রাজ কলেজের Kandi Raj College অধ্যক্ষা ডঃ সোমা দত্ত বলেন, যেখানে হাতের কাজ, স্কিল ডেভলপমেন্ট হয় সেইসব জায়গায় ঝুঁকছে পড়ুয়ারা। পড়াশোনার বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীরা যাতে আবার শিক্ষাকেন্দ্রে ফেরে, সেটাই চাইব।

College Admission কী বলছেন কলেজের অধ্যাপকরা?
College Admission কান্দি রাজ কলেজের অধ্যাপক সুস্মিতা ঠাকুর জানান, বাংলা ডিপার্টমেন্টে সবচেয়ে বেশী পড়ুয়া সংখ্যা থাকত কান্দি রাজ কলেজে। প্রচুর ছাত্র ছাত্রী এসএসসিতে চান্স পেত, সেটা বন্ধ হয়ে গেছে। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে ওরা যানে যে পড়ে লাভ নেই। ভর্তি হয়েই টাকা পাচ্ছে। টাকা নিয়েই আর কলেজে আসছেনা। কলেজেরই অধ্যাপক ডঃ তাপস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সরকারের যে একটা ওয়েলফেয়ার সিস্টেম আছে এই সিস্টেমটা ভেঙে ফেলে একটা বেসরকারি অনলাইনের দিকে ঝুঁকিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে যাতে আমাদের শুধুমাত্র পণ্য নয়! পণ্যের বাইরে যেগুলো ছিল স্বাস্থ্য, শিক্ষা সেগুলোকেও পণ্য বানানো হচ্ছে।

College Admission কলেজে কলেজে এত আসন ফাঁকা! কেন?
College Admission শুধু কান্দি নয়, দুরাবস্থা মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়ার হাজী এ কে খান কলেজেও। হরিহরপাড়া ছাড়াও নওদা, বহরমপুর থেকেও বহু ছাত্র ছাত্রী ভর্তি হয় প্রতি বছর। পড়ানো হয় বিভিন্ন বিষয় যেমন- বাংলা, ইংরেজি, দর্শন, এডুকেশন, পলিটিকাল সায়েন্স, ইতিহাস, ভূগোল, এরোবিক, ফিজিক্যাল এডুকেশন। তবুও এবছর কলেজ থেকে মুখ ফেরাল শিক্ষার্থীরা! জানা গেছে, কলেজে মোট আসন ১৫০৮। কলেজে ভর্তি হয়েছে মাত্র ৩৬০ জন শিক্ষার্থী। অর্থাৎ, প্রায় ১১৫০টি আসনই ফাঁকা থেকে গেছে। জাতীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদের মূল্যায়নে বি++ গ্রেড অর্জন করা এই কলেজের এমন পরিস্থিতি শিক্ষামহলেও বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। কলেজের ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও অ্যাডমিশন সাব কমিটির কো অর্ডিনেটর সামিম আখতার মোল্লা জানান, আগামি ডিসেম্বর, জানুয়ারি থেকেই ফের স্কুলে স্কুলে গিয়ে সচেতন করা হবে ছাত্র ছাত্রীদের। কলেজে ছাত্র ছাত্রী না এলে শিক্ষকদের আগ্রহ কমে যায়। ছাত্র সংখ্যা যাতে বৃদ্ধি পায় তার চেষ্টা করা হবে।
College Admission ছাত্র ছাত্রীদের কলেজমুখী করতে স্কুলে স্কুলে গিয়ে সচেতনতাই পথ!
College Admission কান্দি থেকে হরিহরপাড়ার মতোই জেলার আর পাঁচটা কলেজের রিপোর্টও খুব একটা স্বস্তি দায়ক নয়। উল্লেখ্য, চলতি বছরের মে মাসে প্রকাশিত হয়েছিল উচ্চ মাধ্যমিকের ফল। তারপর ওবিসি জটের কারণে কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়া পিছিয়ে যায় প্রায় দু মাস। ১৭ জুন থেকে খুলেছিল কলেজে ভর্তির কেন্দ্রীয় পোর্টাল। কিন্তু কলেজে কলেজে অধিকাংশ আসন ফাঁকা থাকায় কলেজগুলি নিজস্ব পোর্টালে ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু করে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দপ্তরের নির্দেশে। ৭ নভেম্বর সেই প্রক্রিয়াও শেষ হয়। যদিও তারপরও আসন সংখ্যা নিয়ে ছবিটার বদল খুব একটা দেখা গেল না। ন্যাকের NAAC বি প্লাস প্লাস তকমা পাওয়া কলেজেও টানতে পারল না ছাত্র, ছাত্রীদের। শিক্ষাবিদদের একাংশ মনে করছেন, কর্মসংস্থানের অভাব, বেসরকারি কলেজে বা পেশাদার কোর্সে ভর্তি হওয়ার চাহিদা বেড়েছে।












