ডোমকলের ঘটনায় পাঁচ জনের জেল ও তিন জনের পুলিস হেফাজত
নিজস্ব প্রতিবেদনঃ তখন বুধবার সন্ধ্যা ৫ টা ৫৫ মিনিট। ডোমকলের (Domkol) বাজিতপুর কর্মকার পাড়ায় একটি মুদিখানা দোকানের সামনে থামল দুটি গাড়ি। সামনের গাড়িতে সাঁটানো পুলিসের স্টিকার। সেই গাড়ি থেকে নামলেন ৪ জন। শুধু নামেননি ড্রাইভার। তবে পিছনের গাড়ি থেকে কেও নামেননি। ওটা গার্ড করার জন্যে যেন। এপর শুরু হলো হাঁকডাক, ‘এই এখানে লালচাঁদ মণ্ডল কে আছে’? খোদ লালচাঁদকেই জিজ্ঞাসা করাতে পুলিস ভেবে তিনি ভয়ে ভয়ে বলেন, ‘আমি লালচাঁদ’। অমনি চল বলে কলার ধরে টানতে টানতে গাড়িতে।
আরও পড়ুনঃ Murshidabad TMCP জেলা সভাপতি পদে রদবদল, মুর্শিদাবাদ-জঙ্গিপুরের দায়িত্বে কারা?

আশেপাশেই ছিলেন লালচাঁদের ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী শেফালী বিবি, ভাইয়ের স্ত্রী, পরিবারের অন্য সদস্যরা। আচোমকা ওই ঘটনায় তাঁরা হতভম্ব । তাঁরা জিজ্ঞাসা করাতে লাঠি উঁচিয়ে ধমক, ‘যা বলার থানায় এসে’। উদ্বিগ্ন হয়ে পরিবারের লোক ডোমকল থানায় (Domkol PS) গেলে জানা যায়, এরকম কাওকে পুলিস গ্রেপ্তার করেনি। ওখানে পুলিসের ডিউটি ছিল না। এরপরেই জানা যায় এই ঘটনার নেপথ্যে ওই থানার সিভিক ভলান্টিয়ার হুমায়ুন কবীর। সেই গাড়ি ভাড়া করে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে! এরপর ভাশসালা থেকে পুলিস গাড়ি দুটিকে উদ্ধার করে। পরে ভোর ৪ টে নাগাদ লালচাঁদকে নদীয়ার চাপড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনায় ওই সিভিক সহ আট জনকে গ্রেপ্তার করা করা হয়েছে। ধৃত সিভিক গোবিন্দপুরের বাসিন্দা।
Domkol Civic Arrest ঘটনায় ৩ টি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ধৃতরা হল ডোমকল থানা এলাকার শাখালিপাড়ার বাসিন্দা মোমিনুল ইসলাম (২৫), সুমন মণ্ডল (২৩), মুক্তারপুরের আজমির মণ্ডল (২৩), নারোজপুরের বাসিন্দা এমানুয়েল কবীর (২০), ফতেপুরের বাসিন্দা আনসারুল আনসারী (৩১), ডোমকল মুসলিমপাড়ার বাসিন্দা নয়ন সেখ, খানসাহেব পাড়ার বাসিন্দা মহম্মদ আলি মুবারক ওরফে রিঙ্কু , গোবিন্দপুরের হুমায়ুন কবীর (৩৪)। পুলিস ঘটনার মোটিফ জানার জন্যে জেরা করছে।
Domkol Civic Arrest পরিবারে দাবি, জমি সংক্রান্ত ঘটনায় এই বিপত্তি। এর সঙ্গে আত্মীয়েরা জড়িত। ডোমকল থানার সিভিক ভলান্টিয়ার হুমায়ুন কবীরকে এই কাজে ব্যবহার করা হয়।
Domkol Civic Arrest এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার ধৃতদের পাঁচ জনের জেল হেফাজত ও ৩ জনের পুলিস হেফাজত হয়েছে। লালচাঁদের স্ত্রী শেফালি বিবি বলেন, পুলিসের ছদ্মবেশে গিয়ে দোকান থেকে মারধোর করে টানতে টানতে বের করে নিয়ে এসেছে। বাড়িতেই দোকান। মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে নিয়ে গিয়েছিল। এখন ওরা কী বলছে জানতে হবে। আমার শ্বশুরের আরেক পক্ষের সন্তানরা রয়েছে দক্ষিণনগরে। সেই কারণেই এই ঝামেলা। আমরা জানতে চাই কে করিয়েছে এটা? শাস্তি চাই। সিভিক হুমায়ুন গাড়ি ভাড়া করিয়ে এটা করিয়েছে বলে জানতে পারছি।
Domkol Civic Arrest লালচাঁদের ভাইয়ের স্ত্রী উর্মিলা বিবি বলেন, সরাসরি পরপর দুটি গাড়ি এনে দাঁড় করালো। তারপরে কলার ধরে টানতে টানতে নিয়ে গেল। আমরা জিজ্ঞাসা করলে বলে থানায় যেতে। ঘটনায় জড়িত সিভিক হুমায়ুন।
সিভিক পুলিসের দাদাগিরির একের পর এক ঘটনা সামনে এসেছে। এবার ফের এই ঘটনা! তবে এই নিয়ে ওই সিভিক পুলিসের পরিবারের কোনও বক্তব্য এদিন জানা যায়নি।









