Children’s Day 2025 পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু Pt. Jawaharlal Nehru (জন্ম: ১৪ নভেম্বর ১৮৮৯) স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তিনি শিশুদের প্রতি গভীর স্নেহ ও মমত্ববোধ ছিল নেহেরুর। শিশুদের সবসময় তাঁর অন্তরের কাছে বিশেষ স্থান ছিল। স্কুল-কলেজে নেহেরুর সঙ্গে বহু অনুষ্ঠানে তাঁর গল্পকাহিনী, কথোপকথন ছাত্রছাত্রীদের আনন্দ দিত। শিশুরা তাঁকে স্নেহভরে ‘চাচা নেহেরু’ (Chacha Nehru) বলে সম্বোধন করত।
১৯৬৪ সালে নেহেরুর মৃত্যুপরবর্তী সময়ে ভারতের সংসদ ও বিভিন্ন জাতীয় সংগঠন তাঁর জন্মদিনকে শিশু দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেনে, যাতে তাঁর শিশুদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি ও শিক্ষা-ভিত্তিক সমাজগঠনের যে ভিশন ছিল তা স্মরণীয় থাকে এবং তা গভীরভাবে ছড়িয়ে যায়। সেই থেকেই ১৪ নভেম্বর ভারতে শিশু দিবস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
Children’s Day 2025 নেহেরুর শিশু-চিন্তা: শিশুকে কেন্দ্র করে জাতির ভবিষ্যৎ
নেহেরু বিশ্বাস করতেন—“আজকের শিশুরাই আগামী ভারতের নির্মাতা”। তাঁর কথাগুলো আজও প্রাসঙ্গিক: “The children of today will make the India of tomorrow. The way we bring them up will determine the future of our country.” (আজকের শিশুরাই আগামী ভারতের রূপ তৈরী করবে; তাদের বিকাশের পথই ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।)
Children’s Day 2025 শিশু দিবসে বহরমপুরে রাস্তায় বেলুন ফেরি পথশিশুর
নেহেরুর এই দৃষ্টিভঙ্গি চারটি মূল স্তম্ভে দাঁড়ায় — শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্বাধীন চিন্তা এবং সামাজিক ন্যায্যতা। তিনি মনে করতেন শুধুমাত্র বই-কক্তার শিক্ষা নয়, কল্পনা-ক্ষমতা, খেলার স্বাধীনতা ও মানবিক মূল্যবোধও সমানভাবে জরুরি। তাই ১৪ নভেম্বরকে শিশুরা খুশি হোক—তা ছাড়াও আমরা তাঁদের অধিকার, সুরক্ষা ও মানসিক বিকাশের কথা ভাবি।

Children’s Day 2025 শিশুদিবসের তাৎপর্য: এক সামাজিক ও নৈতিক আহ্বান
শিশু দিবস শুধুই উপহার-উৎসব নয়; এটি একটি সামাজিক বার্তা। এই দিনে আমরা স্মরণ করি—প্রতিটি শিশু রক্ষা-প্রাপ্য, শিক্ষার অধিকারী, এবং সুরক্ষিত বড় হওয়ার অধিকার রাখে। বিশেষত নিম্নবিত্ত, জাতিগতভাবে পিছিয়ে পড়া কিংবা গ্রামীণ অঞ্চলের শিশুরা যেখানে নানা ঝুঁকিতে আছে—শিশু শ্রম, শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়া, স্বাস্থ্যগত উপেক্ষা—এসব ইস্যুতে সচেতনতা তৈরি করাই দিবসের মুখ্য কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম।
২০২৫ সালে বিষয়গুলো আরো বিস্তৃত রূপ পেয়েছে—শিশু মানসিক স্বাস্থ্য, ডিজিটাল নিরাপত্তা, অনলাইন শিক্ষার সুযোগ-অসুবিধা, ও শিশুদের ডিজিটাল দক্ষতা—এসবই এখনো বড় ইস্যু। স্কুল-কলেজ, এনজিও, প্রযুক্তি সংস্থাগুলো নানা ইভেন্ট, ভার্চুয়াল প্রতিযোগিতা, আর্ট-ওয়ার্কশপ, স্টোরিটেলিং এবং সচেতনতা অভিযান চালিয়ে এই বিষয়গুলো তুলে ধরছে।
Children’s Day 2025 উদযাপনের রীতি: স্কুল থেকে কমিউনিটি পর্যায়
ভারতের স্কুলগুলোতে শিশু দিবস উদযাপন হয় বহুমুখীভাবে—বিশেষ অ্যাসেম্বলি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, ও উদ্বোধনী বক্তৃতা। অনেক স্কুলে শিক্ষকেরা দিনটি পাল্টে শিশুরা শিক্ষক হয়ে ক্লাস নেয়—এটি শিশুদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় ও সম্মান জানায়। এছাড়া এনজিও ও চাইল্ড ওয়েলফেয়ার সংস্থাগুলো শিশুর অধিকার, বাল্যশ্রম প্রতিরোধ, এবং শিক্ষার সাম্যতা নিয়ে সচেতনতা কর্মসূচি চালায়।
২০২৫-এ অনেক স্কুল ও সম্প্রদায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ভার্চুয়াল স্টোরিটেলিং, অনলাইন আর্ট-কম্পিটিশন, এবং মানসিক স্বাস্থ্য সেশন আয়োজন করছে; ফলে শহর-গ্রাম, স্কুল-কেন্দ্রিক সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে নতুন শ্রোতাদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।
Children’s Day 2025 শিশু অধিকার ও জাতীয়- আন্তর্জাতিক দিবস: ১৪ ও ২০ নভেম্বর
ভারত ১৪ নভেম্বরকে নিজস্ব ঐতিহ্য ও নেহেরুর স্মৃতির কারণে পালিত করে। অন্যদিকে, জাতিসংঘের সার্বজনীন শিশু দিবস (Universal Children’s Day) প্রতি বছর ২০ নভেম্বর পালিত হয়, যা শিশু অধিকার ও কল্যাণের আন্তর্জাতিক আলোচনার পটভূমি গঠন করে। উভয় দিবসের লক্ষ্য একই—শিশুদের স্বার্থ ও অধিকার সুরক্ষিত করা; তবে প্রেক্ষাপট ও ইতিহাস ভিন্ন। ১৪ নভেম্বরের মাধ্যমে ভারত নিজস্ব ঐতিহ্য ও শিক্ষাগত মিশনকে স্মরণ করে, আর ২০ নভেম্বর বিশ্বব্যাপী শিশু অধিকার ও নীতিমালা নিয়ে সংলাপ তৈরি করে।
Children’s Day 2025 ২০২৫ সালের প্রাসঙ্গিকতা: চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা
২০২৫-এ শিশু দিবস উদযাপন শুধুই ‘উৎসব’ নয়—এটি নীতি নির্ধারক, শিক্ষাব্যবস্থা, পরিবার ও সমাজকে শিশুর সার্বিক বিকাশের দিক নির্দেশ করে। কয়েকটি প্রধান চ্যালেঞ্জ এবং প্রয়োজনীয় তৎপরতা হচ্ছে:
শিক্ষার মান ও সমতা: কোভিড-পরবর্তী যুগে অনলাইন শিক্ষার সুবিধা ও অসুবিধা সমানভাবে স্পষ্ট হয়েছে। প্রত্যেক শিশুকে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এখনো মৌলিক চ্যালেঞ্জ।
স্বাস্থ্য ও পুষ্টি: গ্রামাঞ্চলে এবং দুর্বল অর্থনৈতিক পরিবারের শিশুরা পুষ্টি সমস্যা ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে—এগুলো অব্যাহত নজরদারির দাবি রাখে।
মানসিক স্বাস্থ্য: প্রতিযোগিতা, অনলাইন হ্যারাসমেন্ট এবং পরিবারিক চাপের কারণে শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব বেড়েছে। স্কুলগুলোতে কাউন্সেলিং ও মেন্টাল হেলথ সেবা জরুরি।
শিশু অধিকার ও নিরাপত্তা: বাল্যশ্রম, ট্রাফিকিং, অনলাইন ঝুঁকি—এসব প্রতিরোধে আইন প্রয়োগ ও সমাজ সচেতনতা দুইই গুরুত্বপূর্ণ।
Children’s Day 2025 আমরা কী করতে পারি: একেকজনের ভূমিকাও প্রয়োজন
শিশু দিবসের বার্তা কার্যকর করতে প্রত্যেকের অংশগ্রহণ প্রয়োজন—ইতিমধ্যেই স্কুল, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও বেসরকারি খাত একত্রে কাজ করছে। কিন্তু আরও প্রয়োজন:
ধারাবাহিক মানসম্মত শিক্ষা ও দক্ষতা-ভিত্তিক প্রোগ্রাম।
স্বাস্থ্য ও পুষ্টি উদ্যোগে স্থানীয় স্তরে শক্তিশালী নজরদারি।
মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টিপাত ও সহজলভ্য সেবা।
ডিজিটাল নিরাপত্তা-শিক্ষা ও অনলাইন আচরণবিধি।
শিশুদের কথা শুনবে এমন পারিপার্শ্বিকতা—তাদের স্বপ্ন ও চিন্তা গ্রহণযোগ্য করা।
Children’s Day 2025 প্রতিজ্ঞা
প্রকৃত অর্থে ১৪ নভেম্বর হচ্ছে শিশুর প্রতি আমাদের সামাজিক ও নৈতিক প্রতিজ্ঞা—শিক্ষা, সুরক্ষা, সুযোগ এবং শ্রদ্ধা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার। চাচা নেহেরুর কথায় বললে, “The children of today will make the India of tomorrow”—এই কথাই আমাদের কাজের মূলমন্ত্র হওয়া উচিত। ২০২৫ সালের শিশু দিবসে আমরা সেই প্রতিজ্ঞাকে শুধরিয়ে বলি: প্রতিটা শিশুকে এমন এক পরিবেশ দিতে হবে যেখানে সে নিরাপদে হাসতে পারে, ভয় ছাড়া শিখতে পারে, এবং স্বাধীনভাবে স্বপ্ন দেখতে পারে।















