Childrens Day Murshidabad খেলাতেই ভুলে থাকে শিশু মন। ওরাও মেতে আপন জগতে। দলে ছয় বছরের শিশু থেকে ১৪ বছরের কিশোর। তাদের মধ্যে কেও ষষ্ঠ শ্রেণীতেই পড়া ছেড়ে দিয়েছে। কেও এখনও স্কুলে ভর্তিই হয়নি। অনটনের সংসারে ওদের দিকে সেভাবে নজর দিতে পারেনি পরিবার। কারও বাবা রাজমিস্ত্রি, কারও বাবা খাবারের দোকানে কাজ করেন। কোনওরকমে দিন গুজরান। কারও মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। তাই এখন থেকেই কাজ করার জন্য চেষ্টা ওদের কারও-কারও। হাতের কাজ শিখতে আরম্ভ করা। ওরা অন্যদের অনেককে দেখে যত্ন করে ‘মানুষ’ হতে। বলা যেতে পারে ভালো করে প্রস্ফুটিত হওয়ার সুযোগ পায়নি ওদের অনেকের শৈশব। তবে বিকেল হলেই সবার ঠিকানা বারাক স্কোয়ারের (Barrack Square) মাঠ। এখানে মাঠজুড়ে ফুটে থাকে ওরা। অন্যান্য সবার মতো বিকেলের বারাক স্কোয়ারের মালিক গান্ধী কলোনির ওই শিশুরা। বারাক স্কোয়ারে যাওয়া অনেকেই সেই নির্মল আনন্দের দৃশ্য তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করেন। শুক্রবারও কোনওরকম অনুষ্ঠান না করেও ওভাবেই যেন শিশু দিবসের (Childrens Day 2025) উদযাপন হল বারাক স্কোয়ারে।

Childrens Day Murshidabad শিশু দিবসের বিকেলে ক্রিকেট খেলছিল জনা দশেক শিশু-কিশোর। একজন আউট হলে অন্যজন একেবারে বিরাট কোহলির স্টাইলে আক্রমণাত্মক ভঙ্গীতে উদযাপন করছিল। ছয় মারলে মাথায় হাত। জিজ্ঞাসা করলে কোহলির ভক্ত সেকথা সাফ বলেই দিচ্ছে। ওই সময় মাঠে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কোনও শিশু মায়ের সঙ্গে খেলছে। কেও বা ফুটবল খেলছে।
Childrens Day Murshidabad গঙ্গা পাড়ের গান্ধী কলোনির ওই শিশুদের দলে সব থেকে ছোট ছয় বছরের আদিত্য দাস। ওর কাকা বলে দাবি করে একজন এদিন বলল, এখনও আদিত্য স্কুলে ভর্তি হয়নি। কেন? তাতে তার দাবি, ফর্ম দিলে ভর্তি হবে। গৌড় বিশ্বাস নামে এক কিশোর জানাল, আমি ষষ্ঠ শ্রেণীতেই পড়া ছেড়ে দিয়েছি। বাবা রাজমিস্ত্রির কাজ করতো। বাবার মৃত্যুর পর পড়াশুনো আর চালাতে পারিনি। তিন বছর হল বাবার মৃত্যু হয়েছে। মা কাজ করে সংসার চালায়। কাঠের কাজ কিছুটা শিখেছি। তবে কোথাও এখনও কাজ করি না। আজ যে শিশু দিবস একথা ওরা প্রত্যেকেই জানে। স্বস্তিক নামে এক শিশু বারাক স্কোয়ারের অন্য জায়গা দেখিয়ে বলল, ওখানে আমার টিচার খেলছে। খেলাতেই মেতে থাকে ওরা। তবে বছর দশেকের প্রদীপ বিশ্বাস জানাল, সকালে বাপুজি পাঠাগার স্কুলে মাংস ভাত খাইয়েছে শিশু দিবস উপলক্ষে।
Childrens Day Murshidabad মাঠের অন্য প্রান্তে এক শিশুর প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তার বাবা তো রীতিমতো ক্লান্ত। ছোটবেলায় পড়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রশ্ন কবিতার শিশুর চেয়েও বেশি প্রশ্ন। পড়ন্ত আলোয় ঘাসের উপর শিশু সুল্ভ টলমল পায়ে ছিটকে ছিটকে যাচ্ছে। ভুঁড়ি নিয়ে কার্যত ওর বাবা দৌড়ে পারছে না ওর সঙ্গে। শীতের আমেজ এসেছে। শিশুদের কয়েকজনের গায়ে রঙ বেরঙের শীত পোশাকও দেখা গেল শিশু মনের মতোই।

Childrens Day Murshidabad মাঝে মাঝে অনেকে দুঃখ প্রকাশ করেন খেলার মাঠ হারিয়ে যাচ্ছে এই বহরমপুর শহরে। তাঁদের অনেকেই এই শহরের ফুস্ফুস বারাক স্কোয়ারে আসেন। তবে এখন কোনও একটি মেলা হবে বারাক স্কোয়ারে। সে জন্যে মেলার পোঁতা বাঁশ দিয়ে ঘেরা জায়গা ছেড়ে রেখে খেলতে হচ্ছিল এদিনও। বল পড়লে বাঁশ ঘেরা জায়গার ভিতর দিয়ে গিয়ে আনতে হচ্ছিল শিশুদের। তাদের মধ্যে টিমে বড় কেও বলছিল গর্ত আছে দেখিস, সাবধানে বল আনিস। আগের বার কোনও অনুষ্ঠান শেষে বাঁশ তোলার পর গর্তটা রয়ে গিয়েছে।










