সোমবার দুপুর পর্যন্ত বহরমপুরে ছটে বিক্রি হবে, আশা
নিজস্ব প্রতিবেদনঃ ”উচ্ছে বেগুন পটল মূলো, বেতের বোনা ধামা কুলো, সর্ষে ছোলা ময়দা আটা, শীতের র্যাপার নকশাকাটা।”-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সহজপাঠ কবিতার এই লাইন আধো আধো বুলিতে বলতে বলতে প্রায় সব বাঙালির ছোটবেলা কাটে। খাতায় কলমে এখন শীত আসার আগে হেমন্তকাল। শনিবারের সকালে বহরমপুরে রাস্তার পাশে দেখা মেলে নস্টালজিক সেই কুলোর। শীতের টাটকা সব্জির মতোই। বোনার সময়। তবে বেতের নয় বাঁশের কুলো। গ্রাম-গঞ্জ আগে ছেয়ে থাকতো বাঁশে। অনেক কমে গিয়েছে বাঁশের ব্যবহার। নগর জীবনে উন্নতির ফলে বাঁশ ঝাড়ও অনেক কমে গিয়েছে। তবে ‘বাঁশ’ শব্দটি অবশ্য বঙ্গ জীবনে অঙ্গের মতো অন্য কারণে এই তীব্র প্রতিযোগিতার বাজারে বহুল প্রচলিত! আসছে ছট পুজো। তাই কুলো বিক্রি। খাস বহরমপুর (Berhampore) শহরে হাতে গরমে টাটকা বুনে দেওয়া হচ্ছে। গোরাবাজারে সাগরপাড়ার ধনীরাম থেকে এসে বাঁশের সামগ্রী বিক্রি করছেন শঙ্কর বেদরা। তিনি সকাল থেকে একের পর এক কুলো বুনেই চলেছেন। তবে এবার ছটে (Chhath Puja) এখনও সেভাবে বাজার না থাকায় মন খারাপের বাতাবরণেই চলেছে বাঁশের কারুকাজ।
আরও পড়ুনঃ 2002 Voter List ২০০২ সালের মুর্শিদাবাদের ভোটার লিস্ট দেখবেন কীভাবে ?

Chhath Puja Berhampore প্রতিবছর এই সময় তাঁরা আসেন। মোহন মল থেকে জেলখানার দিকে এগোলে মোড়েই মন্দিরের পাশে ডান দিকে ফুটপাতে কাজ চলছে। এসেছেন মামা ও ভাগ্নে। দেখে মনে হল মামা মিলন বেদ মাছি তাড়াচ্ছেন। সামনে রাখা কুলো, ঝুড়ি, ঢাকনা। সব বাঁশের। তিনি সময় কাটাতে কি প্যাডের মোবাইল ঘাঁটছেন। মিলন বললেন, সেরকম বিক্রি হচ্ছে না। দিনে ১০ টা করে বিক্রি হচ্ছে। বছরের অন্য সময় বানজেটিয়ায় বাড়িতে এই কাজই করি। সেখানে পাইকারি সব বিক্রি করি। তবে মামার সামনে রাস্তার একেবারে পাশে তরুণ রক্ত শঙ্কর বেদ মাটিতে বসে একের পর এক কুলো বনে চলেছেন। ক্লান্তিহীন। এক মনে। তিনি বললেন, বাজার নেই। বৃহস্পতিবার থেকে এসেছি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত থাকি। গত ১০-১২ বছর ধরে আসছি এই সময়টাই। সোমবার দুপুর পর্যন্ত কুলো বিক্রি হওয়ার কথা। ছট পুজোয় কুলো ও ঢাকি বিক্রি হয়। আমরা ঢাকি রাখি না।
Chhath Puja Berhampore সেখানে থরে থরে সাজানো বিভিন্ন আকৃতির কুলো। কোনওটা ৮০, আছে ১২০, ১৫০ টাকারও। বিভিন্ন দামের। এছাড়া আছে ঢাকনা, বিভিন্ন রকমের ঝুড়ি। তাঁদের কথা থেকে বোঝা গেল, এখন প্লাস্টিক সহ আধুনিক সরঞ্জামের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পেরে উঠছন না। তাই হয়তো বাঁশের সেই বাজার নেই। অন্যের কাছে বাঁশ কিনে তা থেকে অনেক কারিকুরির পর এই সামগ্রী করেন তাঁরা। সাগরপাড়া থেকে আসা বাঁশের এই কারিগর বললেন, গ্রামের দিকে এখন ৫০-৬০ টাকায় বাঁশ কিনতে পাওয়া যায়। একটি বাঁশ থেকে ৮-১০ টা কুলো তৈরি করা যায়। দিনে ১০ টা কুলো একজন গড়ে তৈরি করতে পারেন। তবে এখন বিক্রির বাজার নেই। বলতে বলতে একটি পরিবারের এক গৃহবধূ এসে জিনিসের দাম জিজ্ঞাসা করেন তাঁকে। কুলোর দাম জিজ্ঞাসা করেন। ওই সম্ভাব্য ক্রেতাকে আগ্রহ নিয়ে বাঁশ শিল্পী শঙ্কর চাল ঝাড়া কুলো দেখান। ঝুড়ির দাম নিয়ে দর কষাকষি চলে দুজনের মধ্যে। বিক্রেতা ৭০ টাকা বলেছিলেন। অবশেষে তিনি একটি ঝুড়ি কেনেন ৫০ টাকা দিয়ে। ছট পুজোর জন্যে নয়, তিনি দৈনন্দিন সংসারের জন্যেই তা কিনলেন বলে জানান ওই ক্রেতা। যাক ‘ছাই ফেলতে ভাঙ্গা কুলো’-একটি তো কাজে লাগলো! সকালে অন্তত একটি বিকনোয় উৎসাহ পেলেন বিক্রেতা। আবার আপন মনে কুলো বুনতে লাগলেন।









