Chhanabora GI Tag দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। জিআই তকমা পেল মুর্শিদাবাদের ছানাবড়া। মার্চ মাসের ৩১ তারিখ মুর্শিদাবাদের ছানাবড়ার ভৌগোলিক স্বীকৃতি (Geographical Indication বা জিআই) মিলেছে। মিষ্টি খবরে খুশি মুর্শিদাবাদের মানুষ। ছানাবড়ার জিআই নিয়ে জেলার মানুষের দাবি দীর্ঘদিনের। আন্তর্জাতিক বাজার দখলে এই জিআই ট্যাগের বিপুল গুরুত্ব রয়েছে। মুর্শিদাবাদ পর্যটনের জেলা হিসেবে খ্যাত। মিষ্টি প্রেমীদের আশা, দেশী বিদেশী পর্যটকদের কাছে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে ছানাবড়া। অনেকেই মনে করছেন, বিশ্ব বাজারে বিপণনের উপযোগী হয়ে উঠবে ছানাবড়া।
Chhanabora GI Tag কী এই ছানাবড়া ?
ছানাবড়া মুর্শিদাবাদের এক জনপ্রিয় মিষ্টি। উপরের শক্ত আবরণের নীচে নরম ছানার পেলবতা। বহরমপুর শহরের ছানাবড়ার বিশেষ কদর রয়েছে রাজ্যের মানুষের কাছে। এই মিষ্টির মূল উপাদান হচ্ছে ছানা । ছানাবড়ার বাইরের আবরণ ছানাবড়াকে অন্য মিষ্টি থেকে পৃথক করে। কড়া পাকে ভাজা এই মিষ্টি স্বাদে অনন্য। ছানাবড়া তৈরীর পদ্ধতিও অন্যমিষ্টি থেকে একেবারে আলাদা। মুর্শিদাবাদের ছানাবড়া গোল আকৃতির হয়, বাইরে থেকে কালচে বাদামি রঙের এবং শক্ত, কিছুটা খসখসে ধরনের। তবে ভেতরের অংশ নরম ও রসালো। এটি ঘন চিনি রসে ডোবানো হয়, যা বাইরের স্তর ভেদ করে অন্তর্ভাগ পর্যন্ত পৌঁছে যায় এবং মিষ্টিটিকে কোমল করে তোলে। ছানাবড়া তৈরিতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হাতে চালানো সম্পূর্ণ গুঁড়ো গমের আটা ব্যবহার করা হয় , সঙ্গে ছানা মেশানো হয়, যা মিষ্টির স্বতন্ত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কম আঁচে দীর্ঘক্ষণ ধরে ভাজা হয় এই মিষ্টি। মুর্শিদাবাদের ছানাবড়ার স্প্রিংগিনেস (Springiness) ও গামিনেসের (Gumminess) মাত্রা বেশ উঁচু। খাদ্যবিজ্ঞানের পরিভাষায়, গামিনেস হলো এমন একটি টেক্সচার প্রোফাইল, যেখানে কঠোরতা ও সংযোজনক্ষমতা একসঙ্গে মিশে থাকে।
Chhanabora GI Tag মুর্শিদাবাদের ছানাবড়ার রয়েছে উল্লেখযোগ্য ঐতিহ্য
১৯২৬ সালে শ্রীমতী জে হালদারের লেখা “ বেঙ্গল সুইটস” বইতে ছানাবড়ার উল্লেখ রয়েছে। ১৯৮৭ “বাংলার খাবার” বইতে প্রণব রায় দাবি করেছেন, চৈতন্যচরণামৃতে ছানাবড়ার উল্লেখ রয়েছে। যা মিষ্টিকে বিশেষ করে তোলে। ১৮৯৮ সালে বিপ্রদাস মুখোপাধ্যায়ের লেখা “মিষ্টান্নপাক” বইতেও ছানাবড়ার কথা পাওয়া যায়। জানা যায়, নিমাউ মণ্ডল, পটল ওস্তাদ, গোপেশ্বর সাহার হাত ধরে ছানাবড়া জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
( ছানাবড়ার জিআই ট্যাগ প্রাপ্তির সার্টিফিকেট)
Chhanabora GI Tag ছানাবড়ার কথা মুর্শিদাবাদের মানুষের মুখে মুখে। ছানাবড়াকে ঘিরে ঘোরে হাজার গল্পও। সেরকমই এক গল্প অনুসারে, নবাব নাজিম (Nawab Nazim of Bengal) তাঁর রন্ধনশিল্পীকে এমন একটি মিষ্টি তৈরির নির্দেশ দেন, যা ‘রসগোল্লা’ও নয়, আবার ‘পান্তুয়া’ও নয়। এরপরই তৈরি হয় ছানাবড়া। অনুমান করা হয় যে, এই মিষ্টির উৎপত্তি নবাবের শাসনকালে হয়েছিল। দিন দিন এর খ্যাতি বাংলার সীমানা অতিক্রম করে ছড়িয়ে পড়ছে।