এখন খবরমধ্যবঙ্গ নিউজপরিবেশবিনোদনহেলথ ওয়াচখেলাঘরে বাইরেলাইফস্টাইলঅন্যান্য

Berhampore মুর্শিদাবাদের প্রেমিক যুগলের চরম পরিণতিতে প্রশ্ন

Published on: September 26, 2025
Berhampore

Berhampore সমাজের দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে পৃথিবী  থেকে মুছে গেল দুটি প্রাণ। মুর্শিদাবাদের নাবালক প্রেমিক, প্রেমিকা তাঁদের চরম সিদ্ধান্তে সমাজকে দাঁড় করিয়ে রেখে গেল অস্বস্তিকর বেশ কিছু প্রশ্নের সামনে। মুর্শিদাবাদের নবগ্রাম থানার একটি গ্রামে  ২৩ তারিখ নিজের বাড়িতেই  আত্মঘাতী হয় নাবালক প্রেমিক । ২৬ তারিখ আত্মঘাতী হয় নাবালিকা প্রেমিকা । জানা গিয়েছে, নবগ্রাম ও বহরমপুর থানা এলাকার দুই গ্রামের ওই নাবালক ও নাবালিকার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাঁরা নাকি  বিয়েও  করে প্রায় চার মাস আগে । এক জনের বয়স ছিল ১৭, অন্যজনের ১৬। এরপর চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির Child Welfare Committee (CWC) পক্ষ থেকে নাবালককে হোমে ডেকে পাঠানো হয় । অভিযোগ, ২৩ তারিখ হাজিরা দিতে বলা হয় বহরমপুরে সিডাব্লুসির কাছে  । সেদিন মায়ের সঙ্গে হোমে গিয়েছিল কিশোর ।   ২৩ তারিখ রাতেই নিজের বাড়িতেই আত্মঘাতী হয় সে।  এরপর বৃহস্পতিবার মাঝরাতে নিজের বাড়িতেই ঘর থেকে উদ্ধার হয় নাবালিকার দেহ। কিশোরের মায়ের অভিযোগ, হোমে ছেলের সঙ্গে সিডাব্লসির সদস্যরা   কথা বলার পরই ছেলে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।  হোমে কিশোরকে তলব করেছিল সিডাব্লুসিই । কিশোরের মায়ের আরও দাবি, সেদিন সকাল থেকে গিয়ে সন্ধ্যা ৭ টা অবধি বসিয়ে রাখা হয়। ছেলেকে আলাদে করে নিয়ে গিয়ে কথা বলা হচ্ছিল। সিডাব্লুসির ভয়েই ছেলে আত্মঘাতী হয়েছে।

Berhampore নাবালিকার বাবার দাবি, প্রায় চার মাস আগে প্রেম করে এক নাবালকের সঙ্গে বিয়ে করে মেয়ে। এরপর ছেলেকে ডেকে পাঠায় “হোম” থেকে। নিজের নিজের বাড়িতেই থাকছিল দুজনে। বৃহস্পতিবার  মাঝরাতে ঘরেই ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় মেয়ের দেহ। পরিবারের সদস্যরা জানতে চান, চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি ওই নাবালকের সঙ্গে কী এমন কথা বলেছিল যাতে এই চরম সিদ্ধান্ত নেয় সে।

Berhampore  মুর্শিদাবাদের চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির চেয়ারপার্সন সোমা ভৌমিক যদিও  বলেছেন , “ সিডাব্লুসির পক্ষ থেকে কোনও মানসিক চাপ দেওয়া হয় নি। যেটা হয়েছে সেটা দুর্ভাগ্যজনক। আমাদের পক্ষ থেকে কোনোও দোষ নেই”।

তবে একেকবার প্রশ্নের জবাবে একেক রকম কথাও বলেছেন তিনি।   তাঁর আরও দাবি , আইন অনুযায়ী সিডাব্লুসি কাজ করে। শিশুদের সর্বোত্তম ভালোর বিষয়টা দেখানো হয়। সিডাব্লসির কাছে  পেশ করার নাবালক  পর আত্মঘাতী হয়েছে, এই রকম সরলীকরণ করা ঠিক নয়। আত্মঘাতী হওয়ার পিছনে মানসিক স্বাস্থ্য দায়ী।

তিনি বলেন  , আগস্ট মাসে ওই কিশোরকে সিডাব্লুসির কাছে পেশ করা হয় ওই কিশোরকে । বাল্য বিবাহ দুজনেই করেছিল। তাঁকে  বোঝানো হয়েছিল , পড়াশোনা করতে বলা হয়েছিল। তাঁর মা ছেলেকে নিজের কাছে নিয়ে যায়। এই কথা বলার পর আবার তিনি দাবি করেছেন, এই দুইজনের ক্ষেত্রে , বিয়ের কোন প্রমাণ পাওয়া যায় নি। তিনি বলেছেন,  বিয়ে হয়ে থাকলে আলাদা করে দেওয়া হয় । দুই পরিবার ভুল বুঝেছে। ওই কিশোরের মা  জবানবন্দি দিয়ে নিয়ে গিয়েছেন ছেলেকে । দুই নাবালক, নাবালিকার মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্নও তুলেছেন চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির চেয়ারপার্সন সোমা ভৌমিক।তবে কেন ব্যবস্থা নিল না সিডাব্লুসি ? প্রশ্নের উত্তরে আগের অবস্থান থেকে সরে এসে তিনি দাবি করেছেন, কম সময়ের মধ্যে ওই কিশোরের সমস্যা চিহ্নিত করা যায় নি। পরিবারও কোন সমস্যার কথা বলেনি। কিশোর কিশোরীর অভিভাবকদের দিকেও দোষ ঠেলেছেন তিনি।

Berhampore  সিডাব্লুসির চেয়ারপার্সনের মন্তব্যে যদিও আশ্চর্য হয়েছেন   মনোরোগ বিশেষজ্ঞ  রঞ্জন ভট্টাচার্য ।

তিনি বলছেন, “  চেয়ারপার্সনের যে বক্তব্য শুনলাম তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। কয়েক দিন আগেই বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ  দিবস আমরা উদযাপন করেছি। ভারতে বয়ঃসন্ধীকালীন আত্মহত্যার হার উদ্বেগের। অন্যতম কারণ হচ্ছে, সম্পর্কের বিচ্ছেদ ও  পরীক্ষায় ফেল করা। বিচ্ছেদ ইমপালসিভ আকার ধারণ করে ”।

তিনি বলছেন, “ সিডাব্লুসির কর্ণধার কতোটা অমানবিক হতে পারেন। তাঁদের একটা নূন্যতম ট্রেনিং থাকা দরকার কী ধরনের মন্তব্য করা যায়। আলটপকা মন্তব্য করছেন। বলছেন, মোবাইল ফোনের কারনে পেরেন্টিং ঠিক হয় না। তাঁরা মনে করছেন এই সময়ের ভালোবাসা গাড়ির সিগন্যাল মানে না। সিডাব্লুসির কাছে যখন তাঁরা ( কিশোর কিশোরীরা)  যাবেন। সেখানে   একজন কাউন্সিলারের  যে রকম কথা বলার দরকার, সমস্যা নির্দিষ্ট করার দরকার । সেটা হচ্ছে না।  তাঁদের তীব্র আবেগ থাকে।  আবেগের কথা মাথায় না রেখে বকাঝকা করা। তাঁর ফল হিসেবে একে অন্যকে  দোষারোপ করার মাধ্যমে আত্মহত্যার করলে সেটা বিপজ্জনক”।

ডাঃ রঞ্জন ভট্টাচার্য DrRanjan Bhattacharyya বলেছেন , “উনি কী করে জানলেন যে মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক ছিল না ? তিনি অন্যের উপর দোষারোপ করার চেষ্টা করছেন। নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন। যারা এই ধরণের সংবেদনশীল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে জানেন না তাঁরা এই ধরণের উচ্চপদে আসীন হওয়ার যোগ্য নয়”।

মুর্শিদাবাদে নাবালক ও নাবালিকার চরম পরিণতিতে সেই চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির বিরুদ্ধেই অভিযোগের আঙুল তুলেছেন বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ অধীর চৌধুরীও ।

যে কমিটির কাজ, শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। সেই কমিটির বিরুদ্ধেই এই ধরণের অভিযোগ ওঠায় চাঞ্চল্য মুর্শিদাবাদে ।  অধীর বলেছেন, যেখানে ডেকে পাঠানো হচ্ছে । সেখানে এই বয়সী ছেলেমেয়েদের সঙ্গে যে ধরনের কাউন্সিলিং-এর দরকার সেই কাউন্সিলিং করা হচ্ছে না। তাঁদেরকে সংবেদনশীলতার সঙ্গে তাঁদের বিষয়টা বুঝে, সুস্থভাবে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। সেটা না করে এখানে আরেক ধরনের অত্যাচারের ব্যবস্থা আছে।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now