Berhampore Girls College অবহেলা নয়, বঞ্চনা নয়, সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে হবে প্রতিবন্ধীদের। দিতে হবে সামাজিক স্বীকৃতি, দিতে হবে আইনি অধিকার, শিক্ষার অধিকার, স্বাস্থ্যের অধিকার। এরই বহিঃপ্রকাশ কীভাবে ঘটেছে সাহিত্যে? সমাজেরই বা কী ভূমিকা? সমাজ এবং সাহিত্যে প্রতিবন্ধীদের অবস্থান কী? সব নিয়েই শনিবার বিশেষ সেমিনার হল বহরমপুর গার্লস কলেজে।

Berhampore Girls College গার্লস কলেজের প্রাক্তনীদের উদ্যোগে এবং আইকিউএসি IQAC-র তত্ত্বাবধানে জেলা প্রশাসন, ডিসট্রিক্ট সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ডিপার্টমেন্ট, জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের দপ্তর এবং আইন বিভাগ- জোটবদ্ধ হল। “ভারতীয় দৃষ্টিকোণ থেকে প্রতিবন্ধীদের অধিকার এবং সুযোগ-সুবিধা”, ” Disabilities Rights and Privileges in the Indian Perspective : Text and Context” এই বিষয়ে বক্তব্য রাখলেন বিশিষ্টজনেরা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা শাসক উন্নয়ন চিরন্তন প্রামাণিক। তিনি বলেন, যারা প্রতিবন্ধী, বিশেষভাবে সক্ষম তাদের কীভাবে সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা যায়, অধিকার কীভাবে রক্ষা করা যায়, শিক্ষার অধিকার, স্বাস্থ্যের অধিকার, প্রাথমিক যে চাওয়া পাওয়া সমস্ত কিছু নিয়ে আলোচনা হল।”

Berhampore Girls College সেমিনারে বক্তব্য রাখেন কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিষয়ের বিশিষ্ট অধ্যাপিকা ডঃ সাবিত্রী নন্দ চক্রবর্তী, গার্লস কলেজের প্রাক্তনী বেহেলা কলেজের সহযোগী অধ্যাপিকা নন্দিনী সর্বাধিকারী রায়। বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারি আইনজীবী কল্পতরু ঘোষ। সচেতন করা হয় আইনি অধিকার নিয়েও। আইনজীবী কল্পতরু ঘোষ বলেন, ” সংবিধানে বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য কী সুবিধা আছে, পরবর্তীকালে Disabilities act যেগুলো ২০১৬ সালে পাস হয়েছে সেখানে কতটা অধিকারের কথা আছে, ঐ আইন অনুযায়ী প্রতিবন্ধীদের জন্য কতটা কী করা যায়! সমস্ত কিছু নিয়েই সেমিনার হল, সবাইকে সচেতন করা হল।”
Berhampore Girls College সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন মুর্শিদাবাদ ইউনিভার্সিটির ডিন অফ ফ্যাকাল্টি অফ আর্টস সুজাতা বাগচি ব্যানার্জি, পাঁচথুপি হরিপদ গৌরিবালা কলেজের অধ্যক্ষা ডঃ সোমা মুখার্জি। আলোচনায় তুলে ধরা হয় বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন, তাদের পরিবারের লড়াই সংগ্রামের কথা, অবহেলার যন্ত্রণার কথা, সমাজের দায়বদ্ধতা। পাঁচথুপি হরিপদ গৌরিবালা কলেজের অধ্যক্ষা ডঃ সোমা মুখোপাধ্যায় বলেন, মানসিক প্রতিবন্ধীদের প্রতি মানুষের সহানুভূতি আজও খুবই কম। তাদের ঠকিয়ে নেওয়ার একটা প্রবণতা থাকে। দৈহিক প্রতিবন্ধীরা নিজেরা লড়াই করে বেঁচে থাকে। কিন্তু মানসিক প্রতিবন্ধীদের লড়াই করে বাঁচিয়ে রাখতে হয়। আজও আমরা বুঝতে পারিনা মানসিক অক্ষমতা, প্রতিবন্ধকতা। আমরা গার্লস কলেজের এই উত্তরাধিকার প্রবাহিত করতে চাই সমাজের মধ্যে।”

Berhampore Girls College মূল ধারা থেকে বেরিয়ে বিশাল এক পরিসরে মেলে ধরা হল আগামীর সম্ভাবনা। গার্লস কলেজের অধ্যক্ষা ডঃ হেনা সিনহা বলেন, সমাজে এবং সাহিত্যে প্রতিবন্ধীদের অবস্থান, আইনি অধিকার, আমাদের কর্তব্য কী? এই নিয়ে আলোচনা হল। মূল উদ্দেশ্য হল- আমাদের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে হবে প্রতিবন্ধীদের। অবহেলা, বঞ্চনা নয়! সামাজিক স্বীকৃতি, আইনি অধিকার, সমস্ত রকম অধিকার দিতে হবে।
Berhampore Girls College কলেজের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছাত্রীদের প্রয়োজনে ডিসট্রিক্ট সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অফিস থেকে গার্লস কলেজকে দুটি ট্রাই সাইকেল দেওয়া হয় এদিন। থাকে নানান চমক। সেমিনারে বিভিন্ন প্রেসেন্টেশন তুলে ধরা হয়। সেমিনার মঞ্চে উন্মোচিত হয় ‘ বুক অফ অ্যাবস্ত্র্যাক্ট ‘। পরবর্তী সময়ে ফুল পেপার দিয়ে বইটিও প্রকাশিত করা হবে বলেই জানিয়েছেন ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপিকা এবং বহরমপুর গার্লস কলেজ প্রাক্তনীর যুগ্ম সম্পাদিকা কোয়েল গাঙ্গুলি । বছরভর একাধিক বিষয়ে সেমিনার হয় গার্লস কলেজে। এবার ভাবনায় প্রতিবন্ধীরা। মূল স্রোতে ফেরানোর এই প্রয়াসকে সাধুবাদ জানালেন বিশিষ্টজনেরা।












