এখন খবরমধ্যবঙ্গ নিউজপরিবেশবিনোদনহেলথ ওয়াচখেলাঘরে বাইরেলাইফস্টাইলঅন্যান্য

শীত সন্ধ্যায় মুর্শিদাবাদে পার্কে জমজমাট বাউল ফকির উৎসব

Published on: January 28, 2024

দেবনীল সরকার, লালবাগঃ সাধন দাস বৈরাগ্যেকে উৎসর্গ করে শনিবার শুরু হয়েছে দ্বিতীয় বর্ষের ভাগীরথী বাউল ফকির উৎসবের। গতবার এই উৎসবেই জীবনের ‘লাস্ট লাইভ শো’ করেছিলেন তিনি। ‘সাধন স্মরণ’-এর মধ্যে হোমকুন্ডে আহুতি দিলেন সাধন দাসের শিষ্যা মাকি কাজুমি। সাথে ছিলেন সাধনের আশ্রমের সহযোগীরা ও অনেক মনের মানুষ। সকলে মিলে আগুনের সামনে রাখা সাধন দাস বৈরাগ্যের ছবিতে মালা দিয়ে গান ধরলেন ‘তিনি আনন্দময়, তিনি আনন্দময়… ‘।

শনিবার বেলা থেকেই ‘ঐতিহাসিক মুর্শিদাবাদ পার্ক’ প্রাঙ্গনে বাউল ফকিররা আমবাগানে শুরু করলেন মনের মানুষের খোঁজ। গানে গানে বেলা গড়াল। তবে গান থামল না। এ গান থামার নয়, জানালেন আকাশ ফকির। তিনি আবার এই অনুষ্ঠানের অন্যতম উদ্যোক্তাও। তিনি জানালেন, “আগের বারের থেকেও এবারে বেশি সারা পেয়েছি। আর এবারের উৎসবে অনেক বেশি মানুষ যুক্ত হয়েছে। এর পরিধি বেড়েছে অনেক।” রয়েছে আক্ষেপের সুরও।

বাউল গানের সুরে সুর মেলালেন বাদশা মৈত্র ও। ছবিঃ ঋত্বিক দেবনাথ

সে বার সাধন ছিলেন স্বশরীরে এবারে তিনি বিলীন হয়েছেন মানুষের মধ্যে। বাউল গানের কথা ধরেই অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা, অভিনেতা বাদশা মৈত্র জানান, “যেভাবে এক রূপে অনেক আত্মা বিলীন করে সেইভাবে সাধন দাস আমাদের মনে আছেন, সেই গান আমাদের চলার পাথেও। তার যোগ্য উত্তরসূরীরাই সাধক সাধনকে বাঁচিয়ে রাখবেন অনন্তকাল।”

ভাগীরথী বাউল ফকির উৎসবের প্রাঙ্গনে সারাদিন ব্যপী বহু মানুষের আনাগোনা হচ্ছে। মেলার মেজাজে মানুষ আসছেন এখানে। পরিবেশবান্ধব উপাদান দিয়ে মেলা প্রাঙ্গন সাজিয়ে তুলেছেন উদ্যোক্তারা। রয়েছে বিভিন্ন ছোট ছোট দোকান। জেলার মৃৎশিল্পের অন্যতম কারিগর সাধন পাল এসেছেন কাঠালিয়া থেকে। এখানে বসেই হচ্ছে বিভিন্ন মাটির বিভিন্ন কারিগরী। সাথে পিঠাপুলি, চা রয়েছে অনেক কিছুই খাদ্য সামগ্রী। সাথে রয়েছে জেলার গামছা থেকে অন্যান্য হস্ত শিল্পের সম্ভারও।

প্রয়াত শিল্পীকে স্মরণ। ছবিঃ ঋত্বিক দেবনাথ

সন্ধ্যায় শুরু হয় মূল মঞ্চের অনুষ্ঠান। সেখানেও সাধন বৈরাগ্যকে স্মরণ করে মূল মঞ্চের অনুষ্ঠান শুরু হল। গাইলেন একের পর এক শিল্পীরা। শীত মাথায় করে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এসেছিলেন মনের মানুষের খোঁজে। হাঁ করে গিলছিলেন সেই সব গানের তত্বকথা। সুদূর ইসলামপুর থেকে বাইক চালিয়ে এসেছিলেন সন্তু মন্ডল, তিনি জানালেন, “শীতের রাতেও এই গান যেন শরীর গরম করে দেয়। একটা গান এদিনের রসদ দিয়ে দেয়।” শীতের রাতেই আবার বাইক চালিয়ে যাবেন প্রায় ৩০ কিলোমিটার। অসুবিধার কথা জিজ্ঞেস করায় বললেন, “কোনও অসুবিধা নাই। গান শুনে রিচার্জ হয়ে গেছি। ভাবতে ভাবতে চলে যাব।”

রবিবার বাউল ফকির উৎসবের দ্বিতীয় ও শেষদিন। ইতিমধ্যে শুরু আমবাগানে শুরু হয়েছে গানের আসর। যেদিকেই যাবেন কোথাও ঢোল, কোথাও খোল, কোথাও বা খঞ্জনি বা দোতারা আপনাকে হাতছানি দেবে।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now