মধ্যবঙ্গ নিউজ ডেস্কঃ মধ্যযুগীয় বর্বরতার ছবি হরিহরপাড়ায়। কন্যাসন্তানের জন্ম দেওয়ার “অপরাধে” মারধোরের পর স্ত্রীর মাথার চুল কেটে, মাথ্যা ন্যাড়া করে “শাস্তি” দিল স্বামী। চুপ থাকার অভিযোগ উঠল পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও। স্বামীর শাস্তি চেয়ে কোলে শিশুকন্যা নিয়েই হরিহরপাড়া থানার দারস্থ হলেন নির্যাতিতা। বৃহস্পতিবার থানার সামনে দাঁড়িয়ে নির্যাতিতা বলেন, “ আমি চাই না, আমার সাথে যা ঘটেছে সেটা আর কারো সাথে ঘটুক। কেউ উৎসাহ পাক। আমি চাই, আমার স্বামীকে শাস্তি দেওয়া হোক যাতে এই রকম কাজ আর কেউ না করতে পারে”।নির্যাতিতা জানান , শ্বশুরবাড়িতে স্বামীর নির্যাতন চলতই। তিন মাস আগে কন্যা সন্তান হওয়ার পরেই বাড়ে অত্যাচারের মাত্রা। দাবি জানানো হয় টাকারও।
প্রায় দিন সাতেক আগে মেয়ের জন্ম সার্টিফিকেটের বিষয়ে কথা বলতেই চড়াও হয় স্বামী । মেয়েকে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। পরপর কয়েকদিন মারধর করা হয়।
স্ত্রীর অভিযোগ, শুক্রবার মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন শ্বশুর, শ্বাশুড়ি।
বৃহস্পতিবার হরিহরপাড়া থানায় দায়ের হয় অভিযোগ। এরপরেই দিন থানায় আত্মসম্পর্ণ করেন হরিহরপাড়া সলুয়া বিলধারি পাড়া এলাকার বাসিন্দা অভিযুক্ত যুবক।
ঘটনার নিন্দায় সরব হয়েছেন স্থানীয় মানুষ। হরিহরপাড়ার বিডিও রাজা ভৌমিক বলেন, “ আমি বিষয়টি নিয়ে পুলিশের সাথে কথা বলেছি। পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে । আমরা নিন্দা করছি। সকলকে সচেতন করার চেষ্টা করছি”। বিডিও আশ্বাস দিয়েছেন, নির্যাতিতার সামাজিক কোন সমস্যা যাতে না হয় সেই বিষয়টি দেখবে প্রশাসন।
তবে হরিহরপাড়ার ঘটনা ফের সামনে আনল সমাজের মধ্যে লুকিয়ে থাকা নৃশংসতার ছবি। মেয়েদের উপর নির্যাতন কী চলতেই থাকবে ? হরিহরপাড়া থানায় দাঁড়িয়ে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন নির্যাতিতা ।













