এখন খবরমধ্যবঙ্গ নিউজপরিবেশবিনোদনহেলথ ওয়াচখেলাঘরে বাইরেলাইফস্টাইলঅন্যান্য

অদ্য শেষ রজনী। রাত জেগে সাগরদিঘির বুথ সামলাতে প্রস্তুত নেতারা

Published on: February 26, 2023
political

মধ্যবঙ্গ নিউজ, সাগরদিঘিঃ রাত পোহালেই সাগরদিঘির উপনির্বাচন। টানটান উত্তেজনা বিধানসভা জুড়ে। যা ঘুম কেড়েছে শাসক বিরোধী সব পক্ষের। শান্তিতে ভোট উতরোনোর পরীক্ষায় প্রস্তুত পুলিশ ও সাধারণ প্রশাসন। আগামীকাল ২৪৬টি বুথে এই উপনির্বাচন হবে। তিরিশ কোম্পানীর কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি ‘ছাপ্পা ঠেকাতে’ সিসি ক্যামেরার নজরে থাকবে বুথগুলিতে।

সাগরদিঘির বিধায়ক সুব্রত সাহা’র অকাল প্রয়াণের জেরে কাল সোমবার ২৭ ফেব্রুয়ারী এই নির্বাচন হচ্ছে। একুশের নির্বাচনেও প্রার্থী বদল নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে ক্ষোভ দানা বেঁধেছিল। যদিও তাকে সামাল দিয়ে নির্বাচনে জিতে শেষ হাসি হেসেছিলেন ‘বহিরাগত’ সুব্রতই।

উপনির্বাচনে স্থানীয়দের দাবি মেনে নিয়ে দলেরই পছন্দের “কাছের ছেলে” দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে এবার তাই প্রার্থী করেছেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁকে জিতিয়ে আনার পাশাপাশি এই আসন নিজেদের দখলে রাখতে মরিয়া চেষ্টা করছেন খলিলুর রহমান, কানাই মন্ডলরা। উল্টে ‘বহিরাগত’ প্রার্থী দিয়ে সেই চেষ্টায় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে কংগ্রেস ও বিজেপি। অন্তত একটি আসন জিতে বিধানসভায় শূন্যের তকমা ঘোচাতে চাইছেন অধীর চৌধুরী। তাই বিড়ি মহল ধুলিয়ান থেকে বাইরন বিশ্বাসকে উঠিয়ে এনে শাসকের হাওয়ায় সদলবলে ভাগ বসিয়েছেন তিনি। দ্বিতীয় থেকে প্রথম হতে বহরমপুর থেকে দিলীপ সাহাকে প্রার্থী করতে পিছপা হন নি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও। তবে সাগরদিঘির বাসিন্দারা কার পক্ষে কাল যাবেন তা জানা যাবে মার্চ মাসের দু’তারিখ। “অদ্য শেষ রজনী”। কাল একটি ভোটও বেহাতু যাতে না হয় তাই রাত জেগে বুথ সামলাতে প্রস্তুত সব পক্ষ।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এই নির্বাচনে মোট ভোটার ২লক্ষ ৪৫ হাজার ৮২৫জন। রাজনৈতিক দলগুলির হিসেব, সর্বাধিক এক লক্ষ ৭০ থেকে ৮০ হাজার মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। এলাকার সকল পরিযায়ী শ্রমিকরা ভোট দিতে আসতে পারছেন না বলে খবর। আর সেই তথ্যে ভর করে নিজেদের গুটি সাজাচ্ছে তৃণমূল, বিজেপি, কংগ্রেসের মত প্রথম সারির রাজনৈতিক দলগুলি।

তৃণমূলের কানাই মন্ডল বলছেন, “ বিরোধীরা টাকা দিয়ে বুথ কেনার চেষ্টা করছেন। তা রুখে মানুষকে নিজের ভোট নিজে দেওয়ার জন্য আমাদের কর্মীরা সব বুথে থাকবেন। আমাদের কাজ বুথ থেকে নির্বাচন পরিচালনা করা। তাদের খোঁজখবর নেওয়া।” প্রচার বন্ধ তবু শেষ মুহুর্তে একটি ভোটও না ফসকিয়ে যায় তাই ফিসফিসিয়ে ভোটারদের শোনাচ্ছেন স্থানীয় প্রার্থীকে বিধায়ক হিসেবে হাতের নাগালে পাওয়ার সুবিধামালা, দাবি কানাইয়ের।

জোট প্রার্থীর হয়ে ভোট প্রচারে এসে সিপিএএমের মহম্মদ সেলিম বলে গিয়েছেন, “ বহিরাগতরা নির্বাচনের আগে এলাকায় এলে তাদের আটকাতে হবে। আর যদি এসেই যায় অলক্ষে, তাহলে তাদের বেরতে দেওয়া যাবে না।” প্রচার শেষ হলেও রবিবার সাগরদিঘির পাটকেলডাঙা অঞ্চলে হালিমবাগ এলাকায় লালগোলার বিধায়ক মহম্মদ আলী ও প্রাক্তন বিধায়ক মইনুল হকের গাড়ি আটকে দেন জোট কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, নির্বাচনের আগের দিন এলাকাবাসীকে প্রভাবিত করতে এসেছিলেন শাসকদলের ওই দুই নেতা। সেই তথ্য দিয়ে জেলা কংগ্রেস মুখপাত্র জয়ন্ত দাস কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর আস্থা দেখিয়ে অভিযোগ করেন, “ডিএ না পেলেও পুলিশ শাসকদলের তাঁবেদারি করতে ছাড়ছে না। চোরের মত এলাকায় ঢুকছে তৃণমূলের নেতারা।” তিনি বলেন, “ তাই বর্গীদের হাত থেকে বাঁচার জন্য রানী ভবানীর সেনারা যেমন তাঁকে পাহারা দিয়েছিল আমাদের জোট কর্মীরাও তেমনিভাবে বুথ আগলে আছেন তৃণমূলের হার্মাদ বাহিনীর হাত থেকে বুথ রক্ষা করতে।”

বিজেপি বিধায়ক সুব্রত মৈত্র অভিযোগ করেন, “ রবিবার থেকেই রতনপুর, বোখরা, মোরগ্রাম এলাকায় পুলিশের পোশাকে বহিরাগতদের ঢোকাচ্ছে তৃণমূল। আমাদের কর্মীরা যেখানে যেমন পেরেছে তেমনভাবে ঠেকিয়েছে। ওরা রাতের অন্ধকারেও লোকজন ঢোকাবে এলাকায়। বন্যেশ্বর, সেরগ্রাম, শামসাবাদ ছাড়াও বালিয়ার কিছু গ্রামে ওরা ভোট লুট করার জন্য পরিকল্পনা করেছে।” তাঁর দাবি, “ ওরা রিগিং করে জিততে চাইছে সাগরদিঘি। মানুষ ওদের সঙ্গে নেই। আমাদের কর্মীরা সজাগ আছে। কাল কোথাও কোনও বাধা এলে আমরা নির্বাচন কমিশন সহ যতদূরে অভিযোগ জানানোর জানাবো। শান্তিতে এই নির্বাচন হলে সাগরদিঘিতে আমরাই জিতব।”

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now