সংখ্যালঘু মুখ প্রার্থী না হওয়ায় সাগরদিঘিতে হারতে হয়েছে দলকে, দাবি নেতাদের

মধ্যবঙ্গ নিউজ, বহরমপুরঃ সাগরদিঘির মানুষজন সরকারি সব প্রকল্পের সুবিধা না পাওয়ায় তাঁরা তৃণমূল থেকে মুখ ফিরিয়েছে। উপনির্বাচনের ফলাফল ছানবিন করে এমন তথ্য সামনে এনেছে তৃণমূল। যা প্রকাশ্যে জানাচ্ছেন একাংশ নেতা। সংখ্যালঘু মুসলিমরা তাঁদের দলের প্রতি ক্ষুব্ধ সে কথাও মানতে নারাজ তাঁরা। তবে ধর্মীয় মেরুকরণের যে রাজনীতির চল শুরু হয়েছে রাজ্যে তার ফলেই যে সাগরদিঘিতে তৃণমূলকে হারতে হয়েছে সে কথাও আড়েঠারে একাংশ নেতা তা বুঝিয়ে দিতে পিছপা হচ্ছেন না। তাই শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে গিয়ে ফের বেআব্রু হয়েছে তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্দ। হারের পর সাগরদিঘিতে সক্রিয় হয়েছে ‘সুব্রত লবি’। একাংশের অভিযোগ নেতারা কর্মীদের মতকে পাত্তা দেন না তাই হারতে হয়েছে দলকে। জোট যে “সংখ্যালঘু তাসে”ই সাগরদিঘি মাত করেছে তাও বলতে দ্বিধা করছেন না তৃণমূলের নেতারা।
ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর যেমন বলেন, “ মুসলিমরা তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে গিয়েছে তা মানছি না।” তবে সাগরদিঘিতে প্রার্থী নিয়ে যে ক্ষোভ ছিল দলের অন্দরে তাও অকপটে স্বীকার করছেন এই প্রবীণ বিধায়ক। তিনি বলেন, “ ওখানে যিনি প্রার্থী হয়েছিলেন তাঁকে ঘিরে স্থানীয় ভাবাবেগ তৈরি হয়েছিল। সেখানে সংখ্যালঘু কোনও মুখ কিংবা সুব্রত সাহার পরিবারের কাউকে প্রার্থী করলে এই ফলাফল হত না।” তথ্য দিয়ে এদিন হুমায়ুন নিজের দাবির ব্যখাও দিয়েছেন। তিনি বলেন, “ ২০১১ সালে সুব্রত সাহা ৫৪ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে যে মুসলিম প্রার্থীরা দাঁড়িয়েছিলেন তাঁরাও যথেষ্ট ভোট পেয়েছিলেন। কেউ ৩৪ শতাংশ কেউ ১৬ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন।”
২০১৬ সালে সুব্রত সাহা ২৬.২৩ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দী কংগ্রেসের আমিনুল ইসলাম পেয়েছিলেন ২৩.১৮ শতাংশ ভোট। সিপিএমের রজব আলী মল্লিক পেয়েছিলেন ২৩.০৫ শতাংশ ভোট। গোঁজ প্রার্থী সামসুল হোদাও পেয়েছিলেন ১৮.৬৮ শতাংশ ভোট। সে কথা জানিয়ে হুমায়ুন এদিন বলেন, “ ভোট কাটাকাটিতে সুব্রত দা জিতেছিলেন। কিন্তু ২০২১ সালে বিজেপি মুসলিম সম্প্রদায়কে দেশ ছাড়া করার হুঙ্কার দিয়েছিলেন তার বিরুদ্ধে মুসলিমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।”
মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের খানও মনে করেন, স্থানীয় মুসলিম ব্যক্তিকে এই উপনির্বাচনে প্রার্থী করলে সাগরদিঘির ফল দলের বিরুদ্ধে যেত না। তিনি বলেন, “ সাগরদিঘির প্রার্থীকে মানুষ মেনে নেয় নি। এটা আমাদের ব্যর্থতা। আমরা মানুষকে বোঝাতে চেষ্টার কোনও ত্রুটি করিনি।” তবে সতর্কের সুরে তাহের এও বলেন, “ সংখ্যালঘুরা যে তিমিরে ছিল সেই তিমিরেই আছেন। তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই আছেন। কিন্তু সংখ্যালঘুরা যদি উপেক্ষিত হয়, সংখ্যালঘুদের যদি মর্যাদাহানি হয়, সংখ্যালঘুদের যদি কোথাও অসম্মান হয় সেগুলি ভেবে দেখতে হবে। কেন সংখ্যালঘুরা পিছিয়ে যাচ্ছে। তারা কেন শুধু ভোট করবে। মারদাঙ্গা করবে। লড়াই করবে। বুথ দখল করবে। আর যোগ্য মর্যাদা পাবে না সেটাও ঠিক নয়।” তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের জেলা সভাপতি নাজিম মন্ডল বলেন, “ আমাদের সংখ্যালঘুদের মনে প্রার্থী নিয়ে বাধা ছিল। প্রার্থী ২০২১-এ সুব্রত সাহাকে হারাবার জন্য বিজেপি’র হয়ে ভোট করেছিল। আদি তৃণমূলকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি তাই কিছু ভোট নষ্ট হয়েছে।” তবে সংখ্যালঘুকে গুরুত্ব না দিলে আগামী দিনে আরও সাগরদিঘি তৈরি হবে বলেও এদিন স্পষ্ট করেছেন ওই নেতা।