শনিবার দিনভর DI অফিসে CID , এক শিক্ষকের নিয়োগপত্রে অন্যজনের চাকরি মুর্শিদাবাদে

মধ্যবঙ্গ নিউজ ডেস্কঃ নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে বহরমপুরে ডিআই অফিসে শনিবার দিনভর চলল সিআইডি’র তদন্ত। শনিবার ছিল ছুটির দিন। তবে সকালেই অফিস খুলিয়ে ডিআই অফিসেই অপেক্ষা করছিলেন ডিআই মাধ্যমিক অমর কুমার শীল । তলব করা হয়েছিল প্রাক্তন ডিআই পুরবী দে বিশ্বাসকেও। আশীষ তিওয়ারি, গোঠা এ আর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক । তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অন্যের ডকুমেন্ট জালিয়াতি করে ছেলে অনিমেষ তিওয়ারিকে নিজের স্কুলেই শিক্ষকতার সুযোগ করে দিয়েছেন। সেই ঘটনায় সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। শনিবার দিনভর সিআইডি’র জিজ্ঞাসাবাদের পর কী বললেন শিক্ষা দপ্তরের আধিকারি, প্রাক্তন আধিকারিক।

কীভাবে সামনে এল জালিয়াতি ?  জালিয়াতির পদ্ধতি দেখে তাজ্জব সকলেই। নিয়োগে অনিয়মের অভিযগ এনে আদালতে মামলা করেছিলেন সোমা রায়। সেই মামলার সূত্রেই সামনে আসে সুতির স্কুলের এই কান্ড।
জানা যায় সুতির গোঠা  এআর হাইস্কুলের ভুগোলের শিক্ষক অনিমেষ তেওয়ারীর চাকরিই ভুয়ো। মামলায় যুক্ত করা হয় মুর্শিদাবাদ জেলার ডিআই’কেও। বিষয়টি নিয়ে ডিআই’এর রিপোর্ট তলব করে আদালত। স্ট্যাডিং কাউন্সিল মারফৎ নিজেদের রিপোর্ট দেন মুর্শিদাবাদের ডিআই।
সরকারি রিপোর্টে পরিষ্কার কীভাবে হয়েছে দুর্নীতি। ডিআই অফিসের পক্ষ থেকে তথ্য চাওয়া হয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক আশিস তেওয়ারীর কাছে,। স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে তথ্য চাইলে অনিমেষ তেওয়ারির নিয়োগপত্র , রেকমেন্ডশন লেটার, এপ্রুভাল লেটারের জেরক্স কপি এটেস্টেড করা জমা দেন প্রধান শিক্ষক । দেখা যায়, ওই মেমোতে দেখা যায় প্রদীপ পাল নামের এক শিক্ষকের নিয়োগে এপ্রুভাল দিয়েছিল ডিআই অফিস। আরও দেখা যায়, বোর্ড-এর যে নিয়োগপত্র  অনিমেষ তেওয়ারির বাবা,স্কুলের প্রশান শিক্ষক আশিস তেওয়ারি জমা দিয়েছেন। সেই মেমো আসলে অরবিন্দ মাইতি নামের এক শিক্ষকের নিয়োগপত্রের মেমো। বর্তমানে বেলডাংগার স্কুলে চাকরিও করছেন অরবিন্দ মাইতি।
এই রিপোর্ট হাইকোর্টে জমা দিয়েছেন ডিআই। এই বিষয়ে কোর্টে হলফনামাও দেয় বোর্ড( Wbbse) ।
সেখানে বোর্ড স্পষ্ট জানায়,  আতাউর রহমান নামের এক শিক্ষকের রেকমেন্ডএশন লেটারের মেমো এবং অরবিন্দ মাইতি নামের অন্য এক শিক্ষকের এপয়েন্টমেন্ট লেটারের মেমো ব্যবহার করেছেন অনিমেষ তেওয়ারি। দুই নাম্বার ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছিল ফেক রেকমেন্ডশন লেটার, ফেক এপয়েন্টমেন্ট লেটার ! সবটাই হয়েছে প্রধান শিক্ষক আর তাঁর ছেলের যোগসাজশে।

এই ঘটনার তদন্তে  শনিবার প্রায় সাড়ে এগারটা নাগাদ ডিআই অফিসে পৌঁছায় সিআইডি’র তিন সদস্যের টিম। বিকেল  চারটে নাগাদ ডিআই অফিসে আসেন এসএস সিআইডি, স্পেশাল ক্রাইম অনীশ সরকার। ডিআই, প্রাক্তন ডিআই, স্কুলের পরিচালন সমিতির সভাপতির সাথে কথা বলেন তিনি। খলিয়ে দেখেন বিভিন্ন নথি। প্রায় ৬ টা নাগাদ বেড়িয়ে যান অনীশ সরকার। তবে অফিসেই ছিলেন বাকি সিআইডি আধিকারিরা।
প্রায় ৯ টা অবধি চলে জিজ্ঞাসাবাদ। এদিন ডাকা হয়েছিল গোঠা স্কুলের পরিচালন সমিতির সভাপতিকে  । যে শিক্ষকের নথি জালিয়াতি করে চাকরি করছিলেন অনিমেষ তেওয়ারী, সেই অরবিন্দ মাইতিকেও ডেকে পাঠানো হয় ।  শিক্ষাদপ্তর সূত্রে যান যায়, ছুটিতে রয়েছেন অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক।