রাজনৈতিক দলগুলির কাছে সাগরদিঘির উপনির্বাচন পঞ্চায়েত নির্বাচনের মহড়া

 

মধ্যবঙ্গ নিউজ, সাগরদিঘিঃ সাগরদিঘিতে এসে শুক্রবার গ্রামের রাস্তায় দলীয় প্রার্থী দিলীপ সাহাকে নিয়ে প্রচার সারলেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিন সাগরদিঘির বাজার থেকে কর্মীদের নিয়ে কড়েয়া, খেরুর, পিল্কি, ভূমিহড় বড়, ভূমিহড় ছোট, মণিগ্রাম, বালিয়া প্রভৃতি সংখ্যালঘু অধ্যূষিত গ্রাম পায়ে হেঁটে ঘোরেন তিনি। কথা বলেন পথ চলতি মানুষের সঙ্গে। বাড়ি বাড়ি টোকা দিয়ে ভোট ভিক্ষা করেন দলীয় প্রার্থীর হয়ে। মাঝখানে তাল কাটে শাসকদলের ‘গো-ব্যাক’ শ্লোগান। বিজেপি কর্মীদের দাবি, শাসকদলের বিক্ষোভ সামলে প্রায় তিরিশ কিলোমিটার রাস্তা এদিন পরিক্রমা করে ন’পাড়া, বিষহরি হয়ে রাতে দলীয় কার্যালয়ে ফেরেন তিনি। তাঁকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই কর্মীদের উত্তেজনা ছিল অষ্টমে। মাধ্যমিক পরীক্ষা চলায় সাগরদিঘির ভোট প্রচারে মাইক ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে কমিশন। তাই নির্বাচনের তিন দিন আগে সাগরদিঘিতে এলেও বড় জনসভা করতে পারতেন না এই বিজেপি নেতা। তাই প্রচারের জন্য পায়ে হাঁটার কৌশলই নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মাধ্যমিক পরীক্ষার আবহে পদ্ম কর্মীদের কন্ঠে মুহুর্মুহু উচ্চারিত হয়েছে জয় শ্রীরাম ধ্বনি। তারস্বরে বেজেছে তাসার বাদ্যি। শিকেয় উঠছে বিধি। পুলিশ ছিল নিরাপত্তায়, নীরবে। শেষ বেলার এই ভোট প্রচার কতটা বিজেপি’র ভোট বাক্সে প্রভাব ফেলবে তা জানতে এখনও দিন কয়েক অপেক্ষা করতে হবে।

তবে রাজনৈতিক বোদ্ধাদের দাবি, হাতের তালুর মত মুর্শিদাবাদকে চেনেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। তাই তাঁকে এই ভোট যুদ্ধে নামিয়ে আক্ষরিক অর্থে আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগাম আভাস পেতে চাইছে গেরুয়া শিবির। আর তাই গ্রামের পথে হাঁটতে হাঁটতে তৃণমূলকে কটাক্ষ করে এদিন শুভেন্দুকে বলতে শোনা গিয়েছে “ চোর তাড়াতে গেলে পদ্মে ভোট দিতে হবে। চোরেদের তাড়াতে হবে।”

bjp
শুভেন্দু অধিকারীকে তৃণমূলের গো ব্যাক শ্লোগান

এই অকাল নির্বাচনে ইতিমধ্যে আলোচনায় ফিরেছে কংগ্রেস। দিল্লির দরবার ছেড়ে মাটি কামড়ে পরে থেকেছেন অধীর চৌধুরীও। একাধিকবার জোটের শর্তে সাগরদিঘিতে তাঁর সঙ্গী হয়েছেন সিপিএমের মহম্মদ সেলিম। এই আসন ধরে রাখতে মরিয়া লড়াই চালাচ্ছে তৃণমূলও। রাজনীতির সহজ অঙ্কে যদি ধরে নেওয়া যায় উপনির্বাচনের ফল শাসকের পক্ষে যাবে স্বাভাবিক নিয়মে, তাহলে আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে লড়াই যে শক্ত হবে শাসকদলের পক্ষে তা এখনই বলা যায়, দাবি জেলা রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের। প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের অক্টোবরে কংগ্রেসের জেলা পরিষদ ভেঙে তৃণমূলের জেলা পরিষদ গড়ার মূল কান্ডারী ছিলেন এই শুভেন্দুই। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে গেরুয়া পোশাকে সেই ‘চেনা খেলোয়ার’ শুভেন্দুকে যে দেখা যাবে না তা হলফ করে বলতে পারছেন না কেউই। যা নিয়ে চিন্তায় জোড়া ফুল শিবিরও। ভোট প্রচারে একা খলিলুর রহমানের কাঁধে দায়িত্ব না বর্তে উত্তর দক্ষিণ দুই মুর্শিদাবাদের প্রথম সারির নেতাদের দায়িত্ব দিয়েছে তৃণমূল ভবন। মাস খানেক ধরে সেই সব নেতাদের একপ্রকার আস্তানা হয়ে উঠেছে সাগরদিঘির নানান অঞ্চল। সব মিলিয়ে জেলা জুড়ে ফাগুনে আগুন ছড়াচ্ছে এই উপনির্বাচন। পাশাপাশি রাজ্যের প্রধান তিন-চারটি দলের কাছে এই উপনির্বাচন যে পঞ্চায়েত নির্বাচনের মহড়া তা বলার অপেক্ষা রাখে না দাবি বিশেষজ্ঞদের।