ভাইরাস জ্বরে হাসপাতালে ভর্তি বহু শিশু, অ্যাডিনো নিয়ে বাড়ছে আতঙ্ক

মধ্যবঙ্গ নিউজডেস্ক, বহরমপুরঃ জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে বহু শিশু ভর্তি রয়েছে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। ওই হাসপাতালের শিশুদের ইনসেনটিভ কেয়ার ইউনিট বা পিকুতে ১২টি শয্যা রয়েছে। সূত্রের খবর, পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যেখানে একটি শয্যায় চারজন রোগীকে রেখেও পরিস্থিতি সামলাতে হিমসিম খাচ্ছে হাসপাতাল কতৃপক্ষ।

মুর্শিদাবাদ জেলার কোনও সরকারি হাসপাতাল এমনকি বেসরকারি হাসপাতালেও পিকু ইউনিট না থাকায় চাপ বাড়ছে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপর, দাবি চিকিৎসকদের। যদিও জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সন্দীপ স্যান্যাল বলেন, “ প্রত্যেক মহকুমা হাসপাতালে এসএনসিউ আছে। সেখানেই চিকিৎসকরা আপদকালীন ব্যবস্থা রেখেছেন।”

লক্ষ্যণ থাকলেও এখনও পর্যন্ত জেলায় কোনও রোগীর শরীরে অ্যাডিনো ভাইরাসের খোঁজ মেলে নি বলে দাবি চিকিৎসকদের। তবু অ্যাডিনো ভাইরাস নিয়ে সতর্ক থাকতে মঙ্গলবার দুপুরে প্রস্তুতি বৈঠক সারলেন মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের শীর্ষ আধিকারিক, চিকিৎসকরা। ওই কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ অমিত দাঁ বলেন, “ এখনও পর্যন্ত অ্যাডিনো ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এমন কারও খোঁজ পাওয়া যায় নি। কারও মৃত্যুও হয় নি। যে সমস্ত রোগী ভর্তি আছে তারা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসে আক্রান্ত। তবে স্বাস্থ্য-ভবনের নির্দেশমত আমরা সব ধরনের ব্যবস্থার প্রস্তুত রাখছি।”

সূত্রের দাবি, রোগীর লালারস সংগ্রহ করে কল্যাণীতে তা পরীক্ষার জন্য পাঠাচ্ছেন চিকিৎসকরা। দশদিন পরে তার ফলাফল হাতে পেলে এ ব্যাপারে আরও নিশ্চিন্ত হতে পারবেন তাঁরা। এই ভাইরাসের প্রতিষেধকের দাম সাধারণের ক্ষমতার ঊর্ধে। ফলে এর সমাধান নিয়েও চিন্তায় চিকিৎসককূল।

শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ভোলানাথ আইচ বলেন, “ এই রোগটি যে এ বছর এত ভয়ানক হবে তা ভাবা যায় নি। এর প্রতিষেধক আমাদের দেশে পাওয়া যায় না। এর আগে এই রোগ এমন মহামারি আকার নেয় নি।” তাঁর দাবি, “ আগে চোখ লাল হলে আমরা যাকে জয়বাংলা বলতাম এই রোগের প্রাথমিক লক্ষ্যণ সেটাই। সঙ্গে গলা লাল হবে আর ধূম জ্বর আসবে রোগীর।” তাছাড়াও ওই চিকিৎসক জানান, “ এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত রোগীর মাংস পেশিতে বিভৎস যন্ত্রণা হবে, খাদ্য নালী আক্রান্ত হওয়ার ফলে খিদে নষ্ট হয়ে যাবে। সঙ্গে ডায়ারিয়ার মত পায়খানা হবে।” ইতিমধ্যে বহরমপুর শহরে ঘরে ঘরে সর্দি জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে শিশুরা। “ তার মানেই যে সকলে অ্যাডিনো ভাইরাস আক্রান্ত এমনটা নয়”  বলছেন ওই চিকিৎসক।

বক্ষরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জয়দীপ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “ এক একজন শিশুর সাংঘাতিক নিউমোনিয়া হচ্ছে। তখন বাধ্য হয়ে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হচ্ছে।” তিনি বলেন, “ এক মাসের ওপর কাশি থাকছে অনেকের। কোভিডের মত অ্যাডিনো রোগাক্রান্তের সংস্পর্শে এলে অন্য রোগীও সংক্রামিত হচ্ছে। বড়রা যেমন ছোটদের থেকে আক্রান্ত হচ্ছে তেমনি ছোটরাও বড়দের থেকে আক্রান্ত হচ্ছে।” হাঁচি, কাশি যাদের হচ্ছে তাঁদের মাস্ক পড়ার জন্য অনুরোধ করেছেন ওই চিকিৎসক। তবে জয়দীপ বলেন, “ কোভিডের ফলে আমাদের শরীর অতি প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে গিয়েছে। এখন সবথেকে বেশি প্রয়োজন বারো বছর বয়স পর্যন্ত সকলের করোনা ভ্যাকসিন দেওয়া।”

সর্দি-কাশির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শিশুদের মধ্যে বাড়ছে জল বসন্তও। একাধিক ইংরেজী মাধ্যম স্কুলে এখন বার্ষিক পরীক্ষা চলছে। সূত্রের দাবি, জ্বর, হাঁচি, কাশি নিয়ে স্কুলে পরীক্ষা দিতে যেতে বাধ্য হচ্ছে তারা। শহরের এক বেসরকারি স্কুলের পড়ুয়ার বাবা অভিজিৎ চক্রবর্তী বলেন, “ সর্দি জ্বরে আক্রান্ত শিশুদের অভিভাবকদের উচিত স্কুলে না পাঠানো। ওদের কাছ থেকে অন্যরা আক্রান্ত হতে পারে। স্কুল কতৃপক্ষেরও উচিত আক্রান্তদের জন্য আপাতত পরীক্ষা স্থগিত রাখা।” শহরের উপকন্ঠে অবস্থিত এক স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর পড়ুয়ার বাবা হাফিজুল ইসলাম বলেন, “ আমার মেয়ের জল বসন্ত হয়েছে। সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসক তাঁকে বাইরে বেড়তে মানা করেছেন। ওর পরীক্ষা চলছিল। আপাতত সেই পরীক্ষা দেওয়া হচ্ছে না।”