প্রণব বাবুর ‘জঙ্গীপুর ভবন’ কি দর্শনীয় স্থান হতে চলেছে!

নিজস্ব প্রতিবেদনঃ যে জঙ্গীপুরে শিকড়ের টান পেয়েছিলেন প্রয়াত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি, ভারতরত্ন প্রণব মুখোপাধ্যায়, সেই জঙ্গীপুরেই গড়ে তুলেছিলেন আস্তানা- নাম দিয়েছিলেন ‘জঙ্গীপুর ভবন’। কীর্ণাহারের ভুমিপুত্র হলেও জঙ্গীপুর ছিল তাঁর দ্বিতীয় বাড়ি, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এই জঙ্গীপুরই তাকে শিকড় দিয়েছে। তাই বারবার ছুটেও এসেছেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দিল্লির বাইরে জঙ্গীপুর আর জঙ্গীপুর ভবন ছিল প্রয়াত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি তথা জঙ্গীপুরের প্রাক্তন সাংসদ প্রনব মুখোপাধ্যায়ের অত্যন্ত কাছের জায়গা। তাঁর প্রয়াণের পর একটাই প্রশ্ন উঠছে- প্রিয় জায়গায় গড়া জঙ্গীপুর ভবন কি তবে দর্শনীয় স্থান হতে চলেছে? সংরক্ষিত থাকবে প্রণব বাবুর স্মৃতি বিজড়িত জঙ্গীপুর ভবনের আনাচ কানাচ। তাঁর প্রয়াণের পর এখন এই প্রশ্নই ঘোরাফেরা করছে।

রঘুনাথগঞ্জ শহরে ঢোকার আগেই মিঞাপুর মোড় থেকে বাদিকে বেশ কিছুটা এগিয়েই দেউলি গ্রাম। শান্ত সেই পাড়া গ্রামে দাড়িয়েই গড়েছিলেন আস্তানা- নাম দিয়েছিলেন ‘জঙ্গীপুর ভবন’। ৩ বিঘা জমির ওপর খোলামেলা দোতলা বাড়ি। রয়েছে পুকুর, বাগান। বলা যায় বাগান বাড়ি। প্রকৃতির মাঝে গড়ে তোলা জঙ্গীপুর ভবন এ এসে ফুরফুরে থাকতেন প্রণব বাবু। অনেকটা সময় কাটাতেন নিজের সাথে পরিবারের সাথে। আজ তিনি নেই, তবুও রয়েছে পুরনো দিনের স্মৃতি। প্রণব বাবুর ব্যবহৃত সমস্ত কিছুই সযত্নে আগলে রাখা রয়েছে।

ফটফটে সাদা চাদরে সুসজ্জিত খাট, আলমারি, থরে থরে সাজানো রয়েছে বিভূতিভূষণের উপন্যাস সামগ্রী থেকে ফেলুদা সমগ্র, সঞ্চয়িতা- বিভিন্ন স্বাদের বহু বই, রামায়ন, মহাভারত, ভগবত গীতা। প্রণব বাবু তার ব্যস্ততম কর্মসূচির মাঝে আম জনতার দরবারে সামিল হতেন নির্দিষ্ট সময়ে। যখন জঙ্গীপুরে আসতেন বেশ কয়েকটা দিন তিনি থাকতেন। আম জনতার দরবারের পর অনেকটা সময় কাটতো বই পড়ায়, পূজার্চনায় মনোনিবেশ করতেন বেশ কিছুটা সময়। প্রতিদিন সকাল বেলায় তিনি জঙ্গীপুর ভবনের বাগানে হাটতেন। রাজনীতির অলিন্দে সকলের কাছেই অত্যন্ত শ্রদ্ধার এবং অনুস্মরণীয় ছিলেন প্রনব মুখোপাধ্যায়। জঙ্গীপুরবাসী তথা মুর্শিদাবাদবাসীর জন্য কিছু করার ক্ষেত্রে দায়বদ্ধ ছিলেন তিনি। আজ তিনি না থাকলেও তাঁর স্মৃতি আঁকড়ে থাকা ‘জঙ্গীপুর ভবন’ এর মধ্য দিয়েই সকলের মনে বেঁচে থাকবেন তিনি- আশা জঙ্গীপুরবাসীর।

স্পেশ্যাল রিপোর্ট, মধ্যবঙ্গ নিউজ