ধর্মঘটে সামিল হলে বন্ধ হবে স্কুলের মিড ডে মিলের রান্নাও, ধন্দে শিক্ষকরা

মধ্যবঙ্গ নিউজ, বহরমপুরঃ সরকারি কর্মীদের ডাকা শুক্রবারের ধর্মঘটে সামিল হওয়ার ডাক এসেছে স্কুল শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মীদের। তবে সেই ধর্মঘটে তাঁরা সামিল হবেন কি না তা নিয়ে ধন্দে রয়েছেন শিক্ষকরাও। ধন্দে পড়ুয়ারাও। ওই দিন শিক্ষকরা ধর্মঘটে সামিল হলে পড়াশোনার পাশাপাশি বন্ধ থাকবে মিড-ডে মিল বা প্রধানমন্ত্রী পুষ্টি প্রকল্পের রান্নাও। যা নিয়ে চিন্তায় শিক্ষককূল। জেলার মোট ৫ হাজার ৮৭৩টি স্কুল ও মাদ্রাসায় প্রতিদিন গড়ে ন’হাজার পড়ুয়া মিড ডে মিলের খাবার খায়। মাধ্যমিক পরীক্ষা চলায় ফেব্রুয়ারীর ২৩ তারিখ থেকে যে সমস্ত স্কুলে মাধ্যমিক পরীক্ষা কেন্দ্র হয়েছিল সেই সমস্ত স্কুলে বন্ধ ছিল মিড ডে মিলের রান্না। সামনেই উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষাকেন্দ্র হওয়ায় আবারও বন্ধ থাকবে একাধিক স্কুলের পড়ুয়াদের মিড ডে মিলের রান্না। এর মধ্যে কাল শুক্রবার মিড ডে মিল বন্ধ হলে ফের মিড ডে মিল খাওয়া থেকে বঞ্চিত হবে পড়ুয়ারা।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৫ সালের ১৫ অগস্ট তৎকালীন কেন্দ্রের কংগ্রেস সরকার স্কুল পড়ুয়াদের পুষ্টির জোগান দিতে মিড ডে মিল খাওয়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছিল। ২০২১ সাল থেকে নরসিংহ রাওয়ের সেই প্রকল্পের নাম বদলে প্রধানমন্ত্রী পুষ্টি প্রকল্প বা পিএমপোষণ অভিযান নামকরণ করে ‘মোদি’ সরকার। ধর্মঘট নিয়ে শিক্ষক সমাজও খন্ডিত। একাংশ চাইছেন স্কুল স্বাভাবিক রাখতে অন্য একটি অংশ স্কুল বন্ধ রেখে ধর্মঘটে সামিল হতে চাইছেন। তবে সরাসরি নিজেদের মতামত সংবাদমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করতে চাননি বহরমপুরের কোনও স্কুলের প্রধান শিক্ষকই। নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সহ সম্পাদক সুশোভন খান বলেন, “ যে কোনও ধর্মঘটের মত আগামী কালকের ধর্মঘটও স্বাভাবিক। কোনও স্কুল খোলা থাকলে সেখানে শিক্ষক এলে মিড ডে মিলের রান্না হবে। না এলে রান্না হবে না।” সরকারি কর্মচারীদের পাশাপাশি স্বচ্ছভাবে স্কুল শিক্ষক নিয়োগ, জাতীয় শিক্ষানীতি বর্জন ও পড়ুয়া ঘাটতিতে স্কুল বন্ধের প্রতিবাদে শুক্রবার রাজ্য জুড়ে ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে সারা ভারত গণতান্ত্রিক ছাত্র সংগঠন। সংগঠনের মুর্শিদাবাদ জেলা সভাপতি সুমন পাল বলেন, “ আমরা মিড ডে মিলের বিরুদ্ধে নয়। রাজ্যের ৮২০৭টি স্কুল বন্ধ হয়ে গেলে সেখানকার পড়ুয়ারা কোনওদিন মিড ডে মিল পাবে না। সেই রাস্তা আটকাতে একদিন মিড ডে মিল বন্ধ মেনে নিতে হবে পড়ুয়াদেরও।”