ধর্মঘটের প্রস্তুতি শেষ, বিরোধীতায় সক্রিয় শাসক শিবির

মধ্যবঙ্গ নিউজ, বহরমপুরঃ বকেয়া মহার্ঘ ভাতা সহ তিন দফা দাবিতে শুক্রবার রাজ্য জুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। রাজ্যের সমস্ত সরকারি দফতর সহ স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ধর্মঘট হবে বলে ৫৩টি সরকারি সংগঠনের এই যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এই ধর্মঘটের বিরোধিতা করেছে রাজ্যের শাসক পক্ষের কর্মচারী সংগঠন।
প্রসঙ্গত, বকেয়া মহার্ঘ ভাতার দাবিতে ফ্রেব্রুয়ারীর ১০ তারিখ থেকে শহীদ মিনারে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ধর্না-অবস্থান অব্যহত আজও। তারমধ্যেই শুক্রবারের ধর্মঘট সফল করতে জেলার প্রায় সব দফতরে যৌথ মঞ্চের সদস্যরা কর্মীদের আহ্বান জানিয়েছেন বৃহস্পতিবার। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের মুর্শিদাবাদ জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক ধীরাজ সরকার বলেন, “ শিক্ষক থেকে চিকিৎসক, শিক্ষাকর্মী থেকে সেবিকা সবস্তরের সরকারি কর্মীরা আগামী কালকের ধর্মঘটে সামিল হবেন। তার প্রস্তুতি সারা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “ গণতান্ত্রিক উপায়ে লড়াই সংগ্রাম করতে গিয়ে সরকার এ ব্যাপারে কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়নি। অনশনরত কর্মীদের প্রতি মানবিকতাও দেখাননি। দিনের পর দিন এম বিএড পাশ করা চাকরিপ্রার্থীরা চাকরি পাচ্ছেন না। রাজ্যে সামাজিক অবক্ষয় দেখা দিয়েছে। কর্মচারীদের আন্দোলন আজ সামাজিক আন্দোলনের রূপ নিয়েছে।”
পাল্টা প্রচার করে এই ধর্মঘটের বিরোধিতা করেছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশন। ফেডারেশনের কালেক্টরেট আহ্বায়ক দিব্যজ্যোতি সরকার বলেন, “ আমরা এই ধর্মঘটের বিরোধিতা করছি। প্রশাসনের দরজা সবার জন্য আর পাঁচদিনের মতো স্বাভাবিকভাবেই খোলা থাকবে।” তিনি মনে করেন, এই ‘কর্মনাশা’ ধর্মঘটের পক্ষে কর্মীরা যাবেন না। তিনি বলেন, “ এই মূহুর্তে এটি একটি কর্মনাশা দিন। সাধারণ মানুষের জীবনে অকারণে বিপর্যয় আনা ছাড়া অন্য কিছু নয়।” তবে যে দাবিতে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে সেই মহার্ঘ্য ভাতার দাবি তাঁদেরও রয়েছে জানিয়ে দিব্যজ্যোতি বলেন, “ একমাসও হয়নি এক কিস্তি ডিএ ঘোষণা করেছে সরকার। আমাদেরও ডিএ-র দাবি আছে। ডিএ পেলে ভাল লাগে সেটা অস্বীকার করে উপায় নেই। সরকার ভবিষ্যতে তার পরিস্থিতি অনুযায়ী নিশ্চয় করবে চিন্তা করবে।” সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের ধীরাজ কটাক্ষ করে বলেন, “ সারাজীবনেই দেখা গিয়েছে কতিপয় মানুষ লড়াই করে আর তার ফল ভোগ করে অধীক সংখ্যক মানুষ। কিন্তু তারাও চাইছেন এই ধর্মঘট সফল হোক।”