তৃণমূল বিরোধীদের এক বন্ধনীতে রেখে অধীরকে নিশানা অভিষেকের

মধ্যবঙ্গ নিউজডেস্কঃ সাগরদিঘির উপনির্বাচনের প্রচারে এসে রবিবার বিজেপি, কংগ্রেস ও বামেদের এক বন্ধনীতে রেখে দলীয় প্রার্থীর হয়ে ভোট চাইলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিশানা করলের লোকসভার কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরীকে। দলীয় প্রার্থী দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে তিনি বলেন, “প্রত্যেক বুথ থেকে জেতাতে হবে। এক লাখের ব্যবধানের ভোটে জেতাতে হবে দেবাশিসকে।” সাগরদিঘির দিঘার মোড়ের সেই জনসভা থেকে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে বিঁধে তিনি বহরমপুরের সাংসদ অধীর চৌধুরীরও সমালোচনা করেন। এদিন তিনি বলেন, “ কংগ্রেসের প্রার্থীর সঙ্গে বিজেপি’র জোট রয়েছে।” নিজের কথার প্রমাণ দিতে একটি ফ্লেস্ক তুলে ধরেন তিনি। সেই ছবিতে কংগ্রেস প্রার্থী বাইরন বিশ্বাস ও শুভেন্দু অধিকারীকে দেখা যায়। সেই ছবির পাশে লেখা আছে সাগরদিঘিতে বাম-কংগ্রেস-বিজেপি’র আঁতাত এখন প্রকাশ্যে। উপনির্বাচনের আগে সাগরদিঘি কেন্দ্রের বাম কংগ্রেসের জোট প্রার্থী বাইরন বিশ্বাস ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর গোপন সাক্ষাতের ছবি ভাইরাল। বিশ্বাসঘাতকদের বাংলার মানুষ আবারও প্রত্যাখ্যান করবে। (যদিও সেই ছবির সত্যতা মধ্যবঙ্গ নিউজ পরীক্ষা করে নি।) এরপর তিনি বলেন, “রাম বাম চোরে চোরে মাসতুতো ভাই।” বিজেপি দক্ষিণ জেলা সভাপতি ধনঞ্জয় ঘোষ তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “অধীর বাবুর সঙ্গে কংগ্রেস প্রার্থীর ছবি আছে। শুভেন্দুর সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি আছে। এতে কি প্রমাণ হয়? আসলে ওঁদের সরকারের পুলিশের রিপোর্ট অনুযায়ী বিজেপি এই উপনির্বাচনে জিতছে। তৃণমূল তিন নম্বরে চলে যাবে। তাই দ্বিতীয় স্থান পেতে মানুষকে ভুল বোঝাতে এই ধরনের ছেলেমানুষি অভিযোগ করছেন।” ওই জনসভার মঞ্চেই নিজের মোবাইল ফোন বেড় করে একটি অডিও শোনান। সেখানে শুভেন্দু অধিকারীর একটি বক্তব্য শোনান অভিষেক।(যদিও সেই অডিও-র সত্যতা যাচাই করে নি মধ্যবঙ্গ নিউজ)। সেই অডিওতে শোনা যায়, “ সনাতনি বুথ গুলিতে পদ্ম ফুটিয়ে দেন। আর সংখ্যালঘু বুথগুলিতে পদ্ম ফুটবে কি না আমি জানি না, কিন্তু জোড়া ফুল যে জিতবে না তার ব্যবস্থা আমি করে দিয়েছি।” এই প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, “ কি ব্যবস্থা করেছেন? কার সঙ্গে হাত মিলিয়েছে? মির্জাফরের নাম কি? এই জেলার মির্জাফরের নাম কি? বহরমপুর মুর্শিদাবাদের মির্জাফরের নাম কি?” এরপর অধীর চৌধুরীর নাম করে তিনি বলেন, “ তাঁকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ’র পুলিশ নিরাপত্তা দিচ্ছে। সেই অমিত শাহ এনআরসি নিয়ে এসেছে। তার পুলিশ নিরাপত্তা দিচ্ছে অধীরকে। দিদির পুলিশের উপর ভরসা নেই। দাদার পুলিশের উপর ভরসা। এর থেকে বড় গদ্দার, মির্জাফর এই জেলায় এর আগে কখনও জন্মায়নি। আগামী ৫০ বছরে জন্মাবে না।”এর প্রতিক্রিয়ায় জেলা কংগ্রেস মুখপাত্র জয়ন্ত দাস বলেন, “ দিদি ওঁর রক্ষাকবচ আনতে দিল্লি যান মাঝে মধ্যেই। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গোপনে বৈঠক করছেন। অধীর চৌধুরীকে বিজেপি বানাতে বানাতে ওদেরই সেনাপতি শুভেন্দু অধিকারী আজ বিজেপিতে চলে গিয়েছে। অধীর চৌধুরী কিন্তু কংগ্রেসেই আছে।”