তলিয়ে যাচ্ছে ঘর বাড়ি স্কুল, ভাঙনে নিঃস্ব কুলিদিয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদনঃ বহু দূরে ছিল গঙ্গা, কিন্তু আজ সেই গঙ্গাই দুয়ারে এসে পৌছেছে। পাড় ভাঙতে ভাঙতে গোটা গ্রাম গঙ্গার জলে তলিয়ে জেতে বসেছে। সোমবার সন্ধ্যে থেকে ভয়াবহ আকার নিয়েছে ফরাক্কায় গঙ্গা ভাঙন। ফরাক্কার কুলদিয়ারে বিধ্বংসী ভাঙনে গঙ্গা বক্ষে তলিয়ে গিয়েছে আস্ত স্কুল, অঙ্গনওয়ারী কেন্দ্র, তলিয়ে যাচ্ছে ঘর বাড়ি, জায়গা, জমি। রাতের অন্ধকারে ভাঙনের তাণ্ডবে আশ্রয়হীন প্রায় ১২ টি পরিবার। বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে আরও ৪০ টি বাড়ি, যে কোন সময়ে গঙ্গায় তলিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায়। প্রাণে বাঁচতে ভিটে মাটি ছেড়ে পালিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিচ্ছেন গ্রামের মানুষজন। কুলিদিয়ারে আজ হাহাকার আর কান্নার রোল। গঙ্গায় জল বাড়ার সাথে সাথে ভাঙনের ভয়াবহতায় নিঃস্ব গ্রামবাসীরা। গোটা গ্রামের সাথে যোগাযোগ একপ্রকার বিচ্ছিন্ন হয়েছে। অনেকেই ঘর বাড়ি ভেঙে গ্রাম ছেড়েছেন। গ্রামবাসীরা বলছেন, প্রতি বছরের মতো এবছরও ভাঙনে সর্বস্বান্ত হলেন, নিঃস্ব হয়ে আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে। গ্রামবাসীদের মনে আজ শুধুই আক্ষেপ। বর্ষা এলেই গ্রাম ভাসে। ভাঙ্গে পাড়। প্লাবন আর ভাঙন তাদের জীবনে এক জ্বলন্ত অভিশাপ। তবু কেন কোন ব্যবস্থা নেওয়া যায় না? গ্রামবাসীরা যে প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বেরান। ব্লক প্রশাসনিক আধিকারিক অবশ্য বলছেন, ত্রান সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। ফরাক্কা ব্যারেজ কতৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। বিপদ সীমার নীচেই জল আছে। সতর্ক আছে প্রশাসন। বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হলে সেই মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।