জাকির হোসেনের বাড়ি, অফিস, কারখানা থেকে উদ্ধার ১১ কোটি টাকা

মধ্যবঙ্গ ওয়েব ডেস্কঃ জঙ্গিপুরের বিধায়ক , শিল্পপতি  জাকির হোসেনের বাড়ি, কারখানা, অফিস থেকে টাকা উদ্ধার করল আয়কর দপ্তর। আয়কর দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে হিসেব বহির্ভুত  ১১ কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে।  আয়কর দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, তল্লাশি জারি রয়েছে মুর্শিদাবাদ এবং কলকাতা মিলিয়ে ২৮টি স্থানে।  বুধবার  সকালেই মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরের বিধায়ক, প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিশিষ্ট শিল্পপতি জাকির হোসেনের অরঙ্গাবাদের বাড়ি ও কারখানায় হানা দেয় ইনকাম ট্যাক্স দপ্তর । ১০ ঘন্টা চলল ম্যারাথন তল্লাশি, জিজ্ঞাসাবাদ । বুধবার সকাল ৯ টা নাগাদ বিধায়কের অরঙ্গাবাদের বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনী সাথে নিয়ে তল্লাশি অভিযান শুরু করে আয়কর দপ্তরের কর্তারা ।
সুতি থানার অরঙ্গাবাদে বেশ কিছু ব্যবসায়ীর বাড়িতেও ইনকাম ট্যাক্সের তল্লাশি চালিয়েছে । এই তল্লাশি নিয়ে এলাকায় শুরু হয়েছে কৌতূহল।

বৃহস্পতিবার জাকির হোসেন বলেন, ” আমার ৬০ হাজার লেবার। লেবারের টাকা ক্যাশে হ্যান্ডেল হয়। রাইস মিলে হানা দিয়েছে। কৃষিতে সবটাই ক্যাশে কারবার হয়। নিরাপত্তার কারণে টাকা বাড়িতে রাখা হয়েছি। আমরা কাগজ দেখিয়েছি, তারা মানেন নি। বাড়িতে সামান্য টাকা পেয়েছে। রাইস মিলে কী পেয়েছে জানি না।  রাইস মিলে চাষিদের জন্য বরাদ্দ টাকা ছিল” ।

রাজনৈতিক আক্রোশের অভিযোগও তুলেছেন জাকির হোসেন। তিনি বলেন ”  মাননীয় মুখমন্ত্রী মানুষের জন্য ভাবছেন কিন্তু আমরা  এজেন্সির দ্বারা অপমানিত হচ্ছি এটা দুঃখজনক। আমাদের পুরোটাই লেবার এবং চাষিদের টাকা। সেই টাকাই ইনকাম ট্যাক্স সিজ করেছে। কিছু টাকা স্ত্রীর, কিছু টাকা লেবারের। সেই টাকা নিয়ে গিয়েছে। আইন আইনের পথে চলবে। আমি এতো ট্যাক্স দেওয়ার পরে কেন রেড হল বুঝতে পারছি না” ।

সোমবার মুর্শিদাবাদে সভা করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। দুর্নীতি নিয়ে তৃণমূলকে নিশানা করার পাশাপাশি জেলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলো আসবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন শুভেন্দু। বিজেপি নেতার শুভেন্দুর সভার ৪৮ ঘন্টার মধ্যে জেলায় আয়কর হানায় উঠে আসছে রাজনৈতিক সমীকরণের গল্পও।

এদিন বিধায়ক জাকির হোসেন বলেন, “আমি ব্যবসায়ী। আমার এখানে এসেছিলেন অফিসাররা। আমি কোঅপারেট করেছি। আমাদের খাতা কলমে সব ঠিক আছে। আমি মুর্শিদাবাদে সব থেকে শ্রেষ্ঠ ট্যাক্সদাতা”।

তবে আয়কর দপ্তরের আধিকারিকদের আসার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাকির হোসেন। জাকির হোসেন বলেন, ” অফিসার আসতেই পারেন। আসার পদ্ধতি অন্য হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু সিআইএসএফ কেন আনবে ? আমাদের এগুলো হ্যারাস (করা) ছাড়া কিছু নেই। আমরা কোঅপারেট করেছি। এভাবে রেড করবে আসা করিনি। আমরা এতে বিচলিত’। ঘটনার সাথে রাজনৈতিক যোগ আছে বলেও সন্দেহ প্রকাশ  করেন জাকির হোসেন। তৃণমূল কংগ্রেসের জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি খলিলুর রহমান অবশ্য জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে খোঁজ খবর নেওয়ার পরই কিছু বলতে পারবেন তিনি।

এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর, জাকির হোসেনের বাড়ি, অফিস, কারখানা থেকে উদ্ধার ১১ কোটি টাকা।